মেসির স্পর্শে আজীবনের শ্রেষ্ঠ ফ্রেম

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ১২:৪৫ এএম

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ ব্যবধানের জয়ের পর বিশ্বমঞ্চে এমন একটি দৃশ্য তৈরি হয়েছে, যা এখন নেট দুনিয়ার সবচেয়ে আলোচিত ছবি। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করার সেই ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের দ্বিতীয় গোলটি উদযাপনের সময় এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটান লিওনেল মেসি। গোলপোস্টের ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা স্পোর্টস সাংবাদিক হোয়াকিন ব্রুনোকে দেখে সোজা এগিয়ে যান ফুটবল মহাতারকা। গ্যালারির উন্মাদনাকে ছাপিয়ে মাঠের একদম কিনারে থাকা এই আর্জেন্টাইন সংবাদকর্মীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে (হাই-ফাইভ) গোল উদযাপন করেন এলএমটেন। বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের কাছে যা কেবলই একটি ছবি, তবে আর্জেন্টিনার টেলিভিশন চ্যানেল টিওয়াইসি স্পোর্টসের ওই সাংবাদিকের কাছে তা যেন এক ঐতিহাসিক ফ্রেম।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরও যেন ঘোরের মধ্যে ছিলেন সেই সাংবাদিক। থাকারই কথা। পুরো বিশ্ব যখন যার খেলার এক ঝলক দেখতে মরিয়া সেখানে সেই মহাতারকার সঙ্গে তারই গোল উদযাপন, এমন ঐতিহাসিক কোলাজ কয়জনেরই বা কপালে মেলে। ব্রুনো নিজের সেই অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমি এখনো কাঁপছি, পুরো অবশ লাগছে আমার। ম্যাচটা ভীষণ উত্তেজনাপূর্ণ আর কঠিন ছিল। আমার সহকর্মী গ্যাস্টন এদুল ততক্ষণে ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারের জন্য মিক্সড জোনে চলে যাওয়ায় গোলপোস্টের পেছনে আমি একা দাঁড়িয়ে ম্যাচ দেখছিলাম। ঠিক ৯৫ মিনিটের মাথায় ম্যাজিকটা ঘটল। হুলিয়ান আলভারেজের প্রথম শটটি অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষক সøাগার ঠেকিয়ে দেওয়ার পর ফিরতি বলে মেসির শটও ডিফেন্ডাররা আটকে দেয়। কিন্তু তৃতীয় প্রচেষ্টায় মেসি আর ভুল করেননি।’

পেশাদারিত্বের দায়িত্ব ছাপিয়ে একজন সাধারণ আর্জেন্টাইন সমর্থকের মতো বুনো উল্লাসে মেতে ওঠার সেই মুহূর্তটি ব্রুনোর স্মৃতিতে আজীবন অমøান থাকবে। এই প্রসঙ্গ টেনে ব্রুনো বলেন, ‘গোলটি হওয়ার পর একজন অন্ধ ভক্তের মতো আমি চিৎকার করছিলাম। হঠাৎ দেখলাম লিও ঠিক আমার দিকেই এগিয়ে আসছে। ও আমার দিকে তাকিয়ে সোজা চলে এলো এবং আমার বাড়ানো হাতে একটা হাই-ফাইভ দিল। একজন ফুটবল ভক্ত এবং মেসি-পাগল মানুষের জন্য এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। ঘটনার ঠিক পাঁচ মিনিটের মাথায় আমার পুরো ফোন মানুষের পাঠানো ওই ঐতিহাসিক ছবিতে ভরে গেছে। এই মুহূর্ত আর এই ছবি আমি সারা জীবন বুক আগলে রাখব।’

ব্রুনোকে দেওয়া এই অমর মুহূর্তের রাতে মাঠের খেলায় একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন মেসি। এই ম্যাচটির মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গোল (১৮) ও বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ (২৮) খেলার অনন্য এক জোড়া রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন এই মহাতারকা। এছাড়া বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ১৮টি ম্যাচ জয় এবং মিনিটের হিসাবেও (২ হাজার ৪৮৯ মিনিট) বিশ্বমঞ্চে সবচেয়ে বেশি সময় থাকার রেকর্ডটাও এই ফুটবল জাদুকরেরই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত