দেশি-বিদেশি কিছু সিদ্ধান্ত ব্যবসার জন্য নেতিবাচক

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৪৯ এএম

ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কারোপের সমস্যা সমাধানের চ্যালেঞ্জের মধ্যেই দেশ-বিদেশের আরও কিছু নেতিবাচক সিদ্ধান্ত এসেছে যা দেশের ব্যবসায়ীদের সার্বিক ব্যবসায়িক পরিস্থিতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। গতকাল রবিবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (দায়রা) আয়োজিত ‘বাণিজ্যের উদীয়মান দৃশ্যপট : ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং বাংলাদেশের ওপর তার প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। 

এ সেশনটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল। তিনি সেমিনারের শুরুতেই বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশের অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন। কাজী ইকবাল বলেন, আমরা একটি অনিশ্চিত অর্থনৈতিক এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আছি। বিশ্ববাণিজ্য একসময় নিয়মনীতি অনুসরণ করে চলত, কিন্তু এখন তা হচ্ছে না। এ দেশেও এমন অনেক সিদ্ধান্ত আসছে, যা ব্যবসাবান্ধব নয়।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, ট্রাম্পের ট্যারিফের মধ্যে যখন আমরা দারুণ অনিশ্চিত, তখন ভারত থেকে সুতা আমদানি বন্ধ করা হলো। এতে পোশাক খাতের সমস্যা হবে। এখন সুতা সমুদ্রপথে আনতে হবে। এ দেশে প্রচুর ছোট ও মাঝারি পোশাক কারখানা আছে, যারা এখন ছোট পরিসরে আর সুতা আমদানি করতে পারবে না। বিশেষ করে, শুল্ক আরোপের এই সময় এমন সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি।

শামস মাহমুদ বলেন, ভারতে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্ধ, এতে আমাদের ২ হাজার কোটি টাকা খরচ বেড়েছে। আবার সরকার গ্যাসের দাম বাড়াল নতুন কারখানায়। তাহলে বিনিয়োগ আসবে কীভাবে? সরকার ইনভেস্টমেন্ট সামিট করল, বিদেশি যারা এখন বিনিয়োগে আসবে তারা কি এই অসামঞ্জস্য খরচের মধ্যে বিনিয়োগ করবে কি না এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পেছাচ্ছি না। তখন তো ব্যবসা করা আরও কঠিন হয়ে যাবে। আমাদের এই গ্র্যাজুয়েশনের জন্য অর্থনৈতিক সক্ষমতা কতটুকু আছে সেটা দেখা হচ্ছে না। আমাদের পণ্য বহুমুখীকরণে অনেক দুর্বলতা আছে।

মূল বক্তব্য উপস্থাপনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দীন ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে পোশাকের ওপর নির্ভরশীলতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মাত্র ৬-৭ ধরনের পোশাক আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি করি। যদি একটি পণ্যের ওপরেও শুল্কের হারের পরিবর্তন হয় তাহলে মারাত্মক একটি প্রভাব পড়ে।’ তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারণ, নতুন বাজার খোঁজা এবং রপ্তানিকারকদের সহায়তায় নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে ট্রাম্পের এ শুল্ক অসুবিধা মোকাবিলা করতে হবে। একইভাবে তিনি স্মার্ট কূটনীতি, কাঠামোগত সংস্কার এবং বেসরকারি খাতের উদ্ভাবনের ওপর জোর দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত