হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক থার্ড টার্মিানলের নতুন পিডি হিসেবে এএইচএমডি নুরউদ্দিন চৌধুরীকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার মন্ত্রণালয়ে বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে নুরউদ্দিন চৌধুরীকে পিডি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পিডি নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও দুদকের ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার কথা
থাকলেও এই ক্ষেত্রে তা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হয়েছে। তারা বলছেন, প্রকল্পের ৯৯.৫% কাজ শেষ হওয়ার পর মাত্র ০.৫% কাজের জন্য নতুন পিডি নিয়োগ দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। আগের পিডি দিয়েই কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব।
এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের জন্য তিনজনকে নতুন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে প্রস্তাব করে মন্ত্রণালয়ে নাম পাঠায় বেবিচক। তারা হলেন, প্রকৌশলী শুভাশিষ বড়ুয়া, মো. শরিফুল ইসলাম ও এএইচএমডি নুরউদ্দিন চৌধুরী।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর এ কে এম মাকসুদুল ইললামের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল হওয়ার পর পিডিশূন্য হয়ে পড়ে থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প। এ সময় প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা দেখা দেয়। নতুন পিডি নিয়োগে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। পিডি নিয়োগের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই এবং দুদকের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়। এ দুটি ছাড়পত্র পেতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়। পরবর্তীতে প্রায় তিন মাস পর প্রকৌশলী জাকারিয়া হোসেনকে পিডি হিসেবে নিয়োগ করা হয়। বর্তমানে জাকারিয়া হোসেনকে পিডির পাশাপাশি প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্বও দেওয়া হয়। তাকে দিয়েই অবশিষ্ট কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব ছিল।
বেবিচকের কয়েক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, যে ৩ জনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল তার মধ্যে নুরউদ্দিন সবচেয়ে জুনিয়র। থার্ড টার্মিনালের মতো বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ঠ প্রকল্পের বারবার পিডি পরিবর্তন হলে নতুন পিডির নমুনাস্বাক্ষর মন্ত্রণালয়, ইআরডি, দাতা সংস্থা জাইকা, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ নানা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করতে হয়। এ প্রেরণ ও অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। এ কারণে একেএম মাকসুদুল ইললামের চুক্তি বাতিলের পর ঠিকাদারের ও পরামর্শকের বিল পরিশোধ বন্ধ থাকে এবং টাকার অভাবে বিদেশ হতে আমদানিকৃত মালামাল পোর্ট হতে ছাড়করণ কাজও বন্ধ হয়ে যায়। বিলম্বজনিত কারণে সরকারের প্রায় ১০০ কোটি টাকা লোকসান হয়। এখন নতুন পিডি নিয়োগ করায় থার্ড টার্মিনালের কাজ আরও দীর্ঘায়িত হবে।
বেবিচকের দুর্নীতিবিরোধী সমন্বয় কমিটির প্রধান ড. জোবাইদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পের পিডি ঘন ঘন পরিবর্তন করা না গেলেও সরকারি এ আইন মানা হচ্ছে না। এ কারণে সরকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।’
এ বিষয়ে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া বলেন, নুরউদ্দিন চৌধুরীকে থার্ড টার্মিনালের পিডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
