নুরুল কাইয়ুম খান
প্রেসিডেন্ট
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা)
বে-টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দর তথা দেশের আমদানি রপ্তানির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন অবশ্যই করতে হবে এবং চট্টগ্রাম বন্দর এটাকে অগ্রাধিকারও দিচ্ছে। আর অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে দীর্ঘ এত বছরেও বে-টার্মিনাল প্রকল্প থেকে বন্দর সরে আসেনি। এখন বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া প্রকল্পটি ২০ এপ্রিল একনেকে অনুমোদনও পেয়েছে। ইতিমধ্যে টার্মিনাল নির্মাণের জন্য সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটি ও দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তি করেছে। একনেকে অনুমোদনের পর বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ২৩ এপ্রিল ঋণচুক্তি হয়ে গেল। এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।
বে-টার্মিনালের পাশাপাশি মাতারবাড়ী বন্দরের জেটি নির্মাণের লক্ষ্যে জাইকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে ২২ এপ্রিল। ২০২৯ সালে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে মাতারবাড়ী। অন্যদিকে কর্ণফুলী চ্যানেলে লালদিয়ার চরে বিশে^র দ্বিতীয় শীর্ষ শিপিং কোম্পানি মায়ারস্ক কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ডেনমার্কের জিটুজি চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তির আলোকে ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার নিয়োগ হয়েছে এবং এরপরই মায়ারস্ক এপি মুলারের সঙ্গে টার্মিনাল নির্মাণের চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো বে-টার্মিনাল, মাতারবাড়ী অপারেশন আসার আগে চট্টগ্রাম বন্দরের যে প্রবৃদ্ধি, তা সামাল দিতে পারবে কি না? আমার উত্তর, অবশ্যই পারবে। বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়েই তা সম্ভব। একসময় বলা হতো, চট্টগ্রাম বন্দর বছরে ২০ লাখ কনটেইনারও হ্যান্ডলিং করতে পারবে না। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় বন্দর ব্যবস্থাপনা ও বন্দর ব্যবহারকারীদের প্রচেষ্টায় বন্দর দিয়ে এখন বছরে ৩০ লাখের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হচ্ছে। আগামীর বন্দর হ্যান্ডলিং করতে বন্দরের ভেতরের কনটেইনারগুলো অফডকে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের পাশাপাশি মায়ারস্ক এপি মুলারের সঙ্গে চুক্তি হলে হয়তো ২০২৮ সালে লালদিয়া চরে মায়ারস্ক অপারেশনে আসতে পারে। তখন বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী অপারেশন আসার আগ পর্যন্ত সময়টিতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
