উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৫৫ এএম

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য অব্যাহতিপত্র পাননি।

এদিকে সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া চাপের মুখে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের অব্যাহতির সিদ্ধান্তে ন্যায়বিচারের পরাজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে কুয়েট শিক্ষক সমিতি।

কুয়েটের উপ-উপাচার্য দাবি করেছেন, তিনি পদত্যাগ করেননি বা তাকে পদত্যাগ করতেও বলা হয়নি। অন্যদিকে কুয়েটের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের অব্যাহতি প্রদানের সংবাদ প্রচার হওয়ার পর থেকে ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত বুধবার রাত ১টায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. তানজীম উদ্দিন খান কুয়েটের উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জুস খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করান। পরে শিক্ষার্থীরা অনশনস্থল থেকে নিজ নিজ হলে ফিরে যান। এর আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মামুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্যকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। অনতিবিলম্বে একটি সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে এ দুটি পদে নতুন নিয়োগ প্রদান করা হবে। অন্তর্বর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম চালু রাখার স্বার্থে জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের মধ্য থেকে একজনকে সাময়িকভাবে উপাচার্যের দায়িত্ব অর্পণ করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়।

তবে কুয়েটের রেজিস্ট্রার মো. আনিছুর রহমান ভূঞা বলেন, গতকাল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে অব্যাহতিপত্র পাননি।

৬৫ দিনের আন্দোলন ও ৫৮ ঘণ্টার অনশনের পর গত বুধবার গভীর রাতে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের অব্যাহতি প্রদানের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

কুয়েট উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে অব্যাহতির সিদ্ধান্তে ন্যায়বিচারের পরাজয় হয়েছে : সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া চাপের মুখে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের অব্যাহতির সিদ্ধান্তে ন্যায়বিচারের পরাজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) শিক্ষক সমিতি। গতকাল শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ফারুক হোসেন এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

আমি পদত্যাগ করিনি কুয়েটের উপ-উপাচার্য : কুয়েটের উপ-উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম বলেছেন, আমি বুধবার রাত ১০টায় ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়েছি। তবে কোনো কাগজে স্বাক্ষর করিনি। এটা অব্যাহতি হতে পারে। কিন্তু আমি পদত্যাগ করিনি বা আমাকে পদত্যাগ করতে বলাও হয়নি। আমাদের যদি বলত ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে আপনাদের পদত্যাগ করতেই হবে, এটাই একমাত্র সমাধান। তাহলে আমরা পদত্যাগ করতাম। আমি কোনো পদত্যাগপত্র পাঠাইনি।

গতকাল কুয়েটের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য পদত্যাগ করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর শেখ শরীফুল আলম এ কথা জানান। তিনি বলেন, ইউজিসির টিম বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেছে। বেশিরভাগ সময় ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেছে। আমার সঙ্গে কথা বলেছে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। ১৮ ও ১৯ তারিখের ঘটনা বিষয়ে কথা হয়েছে। তাদের কোনো প্রশ্নই আমার কাছে মনে হয়নি যে, আমার কোনো একটা জায়গা থেকে ত্রুটি বা স্বচ্ছতা, নিষ্ঠার অভাব আছে। প্রতিষ্ঠান বা ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করছি। তবে আমি বুঝতেই পারছি না যে আসলে আমার অপরাধটা কী?

তবে পদত্যাগের বিষয়ে জানতে উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কুয়েট শিক্ষার্থীদের বিজয় মিছিল : কুয়েটের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এমন সংবাদে বিজয় মিছিল করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিকেল পৌনে ৫টায় স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সামনে জড়ো হয়ে তারা বিজয় মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। তারা বলেন, উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়টি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তারা বিজয়ী হয়েছেন।

এর আগে অনশনে থাকা শিক্ষার্থী সিভিল বিভাগের রাহাতুল ইসলাম বলেন, রাত সোয়া ১টার দিকে ক্যাম্পাসে এসে তানজীম স্যার (ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. তানজীম উদ্দিন খান) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একটি পত্র আমাদের পড়ে শোনান। তাতে জানতে পারি সরকারের পক্ষ থেকে স্বৈরাচারী উপাচার্যকে অপসারণ করা হচ্ছে। তখন থেকে ক্যাম্পাসে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত