জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চলমান ধারাবাহিক আলোচনায় জামায়াতে ইসলামী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা বর্তমান রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের মেয়াদ পরিবর্তনের পক্ষে নয়। গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে জামায়াতে ইসলামীর এই অবস্থানের কথা জানান দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সকাল থেকে আলোচনা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
আলোচনার শুরুতে অধ্যাপক আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন। এ সময় কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
আলী রীয়াজ বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে, তা শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়। এটি বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের আকাক্সক্ষার ফল। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের তাগিদ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে এসেছে, ছাত্রসমাজের কাছ থেকে এসেছে এবং সর্বোপরি দেশের সব স্তরের মানুষের কাছ থেকে এসেছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এই বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হালিম। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরাও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
জামায়াত নেতারা বৈঠকে বলেন, ‘বর্তমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই সমাধান খোঁজা উচিত। রাষ্ট্রপতি ও সংসদের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার জন্য, তাই এসব মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করলে দেশে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।’ তারা আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দলগুলোর মধ্যে ‘আন্তরিক সংলাপ ও পারস্পরিক সহমতের ভিত্তিতে’ পথ খুঁজে বের করা জরুরি। সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো সমাধান জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে বলে তারা মন্তব্য করেন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রতিক্রিয়ায় কমিশনের সদস্যরা জামায়াতের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং বলেন, কমিশনের উদ্দেশ্য হলো সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির মতামত সংগ্রহ করে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় রূপরেখা প্রণয়ন করা। কমিশনের চেয়ারম্যান ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক দলের অবস্থান রেকর্ড করছি। কোনো দল বা মতামত বাদ দিয়ে ঐকমত্য গড়া সম্ভব নয়।’
বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও কয়েকটি প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়, যেমন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন, রাজনৈতিক সহিংসতা পরিহার এবং মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষায় সকল দলের প্রতিশ্রুতি। তারা মনে করেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠিত হলেই দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব হবে।
