একটা শতক, একটা ইনিংসে ৫ উইকেট। তাও আবার একই ম্যাচে। ক্রিকেটে এটিকে বলা হয় ‘১০০-৫’। এই অর্জনটা বড়জোর হাতেগোনা কয়েকজনের থাকে। এখন সে তালিকায় জায়গা করে নিলেন বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজ। চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যাটে-বলে বাজিমাত করে সিরিজের দ্বিতীয় জয় এনে দিলেন বাংলাদেশকে। ম্যাচ শেষে মিরাজ জানালেন, এই অর্জনটা তার কাছে কতটা বিশেষ।
‘অবশ্যই খুব ভালো লাগছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ১০০ করেছিলাম, ৩ উইকেট পেয়েছিলাম। অল্পের জন্য ৫ হয়নি। এই মাঠেই সেই ম্যাচ হেরেছিলাম। এবার জিতেছি, ১০০ রান, ৫ উইকেট—অর্জনটা স্পেশাল,’ বলেন ম্যাচসেরা মিরাজ।
চট্টগ্রামের প্রথম ইনিংসে করলেন ১০৩ রান, দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে তুলে নিলেন ৫টি উইকেট। বাংলাদেশ পায় বড় জয়, আর মিরাজ ফিরে যান অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের স্বর্ণভাণ্ডার নিয়ে।
এই সাফল্যের পেছনে দুই জনের অবদান আলাদাভাবে স্মরণ করেন মিরাজ, ‘আমাদের সবাই ভেবেছিল আমরা ভালো করব। দুইটা মানুষকে ধন্যবাদ দিতে চাই। আমাদের কোচ বাবুল স্যারকে আর টিম ম্যানেজার নাফীস ভাইকে। ওরা সবসময় আমাকে বুস্ট আপ করে। যখন ব্যাটিংয়ে যাচ্ছিলাম, তখনও বলেছে ‘তুই কিন্তু প্রপার ব্যাটার, তোর কিন্তু ১০০ রান আছে।’ সত্যি বলছি, ওদের কথা মন থেকে কাজে লাগাতে চেয়েছি।’
শেষ দিকে যখন সেঞ্চুরি ছিল হাতের নাগালে, তখনও মিরাজ ছিলেন শান্ত। বলেন, ‘ব্যাটিংয়ের সময় চেষ্টা করছিলাম যেন ২ রান নিতে পারি। কিন্তু ফিল্ডারের হাতে চলে গিয়েছিল। তারপরও আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছিলাম। যদি কপালে থাকে তাহলে হবে, নাহলে কিছু করার নেই।’
এতো অলরাউন্ড কৃতিত্বের পর স্বাভাবিকভাবেই সাকিবের প্রসঙ্গ উঠে আসে সংবাদ সম্মেলনে। মিরাজ বললেন, 'ভাই একটা জিনিস দেখেন, আপনি যেটা বললেন সাকিব ভাইয়ের অর্জন অনেক বেশি আমরা জানি। এই প্রশ্নটা সবাই দেখি করে। সাকিব ভাই সাকিব ভাইয়ের রোল প্লে করেছে। আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে বোলিং দিয়ে। পরে ব্যাটিংটা উন্নত করেছি।'
নিজের মতো করে খেলার ইচ্ছা জানিয়ে আরও বলেন, 'যেহেতু আমি ব্যাটিংটা পারি। চেষ্টা করেছি উন্নত করার। আমাদের দলের অনেক সাহায্য হয়েছে। আমি অবশ্যই সেভাবে নিজেকে গড়ার চেষ্টা করেছি। আমি নিজের মতো করেই খেলতে চাই।'
শেষের দিকে মারলেন ছক্কাও। এক বাউন্সারে খেললেন সাহসী শট। মিরাজ বললেন, ‘আজকে তো ৬ মেরে দিয়েছি বাউন্সারে। আমি আগেও বলেছি বাউন্সারে আমি রানও করেছি। মাঝেমধ্যে ভুল হয়, কিন্তু বড় প্লেয়াররাও করে। ওই ওভারটা আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। ভাবছিলাম ছয় মারব, মেরেও দিয়েছি।’
একটা শতক, একটা পাঁচ উইকেট—পরিপূর্ণ পারফরম্যান্সের নাম যেন আজ মেহেদী হাসান মিরাজ।
সাকিবের যে কীর্তির পাশে মিরাজ
টানা জয়ে এগিয়ে গেলেন তামিমরা