আওয়ামী লীগ সনাতন ধর্মেও লোকদের ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই আওয়ামী লীগ সনাতন ধর্মের লোকদের একদিনের পখরি হিসেবে ব্যবহার করেছে, আর সেটা শুধু ভোটের দিনেই। কিন্তু আমি বলতে চাই আমরা সবাই বিভিন্ন রাজনীতি করতে পারি, তবে বিভাজন সৃষ্টি কেন করব।
গতকাল বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়ের লক্ষ্মীরহাটে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি না করে সকলে একত্রিত হয়ে দেশটিকে গড়ে তুলব, শান্তি প্রতিষ্ঠা করব এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব। তাই সকলে একত্রিত থাকব। এখানে হিন্দু- মুসলিম-খ্রিস্টান কারও মধ্যে কোনো বিভাজন থাকবেনা।
আওয়ামী লীগের কারণেই নানা হয়রানি হয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কারণে আমাদের অনেক নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে। এই অবস্থা আমরা আর চাই না।
নির্বাচন চেয়ে ফখরুল বলেন, আমরা চাই দেশে একটা নির্বাচন হোক। কারণ এই নির্বাচন হলে আমরা একটা সরকার গঠন করতে পারি। কারণ যেই সরকার গঠন হোক সেটা তো আমাদেরই হবে, জনগণের হবে। আমরা তাহলে আমাদের সুখ-দুখের কথা সেই সরকারকে বলতে পারব। তারা আমাদের সাহায্য করবে।
এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে ওই ইউনিয়নে আরও একটি স্থানে গণসংযোগে যোগ দেন মির্জা ফখরুল।
এর আগে সকালে শহরের কালীমন্দিরের উদ্বোধন এবং মন্দিরপাড়ায় অবস্থিত সেন্ট মাদার তেরেজা স্কুলে তাকে দেওয়া এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ সময় তিনি বলেন, আজকাল পুরো দেশে একটা হিংসা-প্রতিহিংসা, হানাহানি চলছে। এটা থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হলো মানুষের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করা, বেঁচে থাকার জন্য নতুন করে সমাজ গঠন করার একটা তাগিদ সৃষ্টি করা।
তিনি বলেন, ’৭১ সালে আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল একটা সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তৈরি করা। তবে দুর্ভাগ্যক্রমে এটা থেকে আমরা অনেকদিন বঞ্চিত ছিলাম। এখন সুযোগ পেয়েছি আন্দোলনে আমাদের ছেলে-মেয়েরাই আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে একটা নতুন বাংলাদেশ তৈরি করার।
শেষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে রবি ঠাকুরের একটি কবিতা আবৃত্তি করে শোনান ফখরুল ইসলাম। বক্তব্য শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন শিক্ষকরা।
