গত দুই দিনে পবিত্র হজ পালন করতে বাংলাদেশ থেকে ৮ হাজার ২৬৯ জন সৌদি আরবের মক্কায় পৌঁছেছেন। গতকাল বুধবার ১৩টি ফ্লাইটে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার যাত্রী হজ পালনের জন্য সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। মঙ্গলবার মোট ৭টি ফ্লাইটে ২৮১৯ জন ও বুধবার একটি ফ্লাইটে ৪৪০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।
সোমবার রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করেন। এরপর রাত ২টা ১৫ মিনিটে সাউদিয়ার প্রথম ফ্লাইট (এসভি ৩৮০৩) হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার উদ্দেশে যাত্রা করে, যাতে ছিলেন ৩৯৮ জন হজযাত্রী।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছর তিনটি এয়ারলাইনস ২৩২টি প্রাক-হজ ফ্লাইটের মাধ্যমে হজযাত্রী পরিবহন করবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১১৮টি প্রাক-হজ ফ্লাইটে ৪৪ হাজার ৩০৭ জন, সাউদিয়া ৮০টি ফ্লাইটে ৩২ হাজার ৭৪০ জন ও ফ্লাইনাস ৩৪টি ফ্লাইটে ১৩ হাজার ৬৫ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৮৭ হাজার ১০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যাবেন। তার মধ্যে ৫ হাজার ২০০ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৮১ হাজার ৯০০ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৫ জুন হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও সহজ করতে এই বছর হাজিদের জন্য লাব্বাইক নামের একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। অ্যাপে যোগাযোগ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া হাজিদের হজ প্রিপেইড কার্ড ও মোবাইল সিমের রোমিং সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে। আগামী ৩১ মে পর্যন্ত চলবে হজ ফ্লাইট। আর ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ১০ জুন।
অনুমতি ছাড়া হজ করলে কঠিন শাস্তির ঘোষণা সৌদির : অনুমোদন ছাড়া হজ পালনের চেষ্টা কিংবা এর সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২৯ এপ্রিল থেকে শুরু করে আগামী ১০ জুন পর্যন্ত এই নিয়ম কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া হজ পালনের চেষ্টা করলে বা হজ পালনের উদ্দেশে মক্কা নগরী ও পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। এই নিয়ম ভিজিট ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ বা অবস্থান করতে চাইবেন। এছাড়া যারা এমন ব্যক্তিদের জন্য ভিজিট ভিসার আবেদন করবেন যারা হজের অনুমতি ছাড়া হজ পালনের চেষ্টা করেছেন বা মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলোতে অবস্থান করেছেন তাদের সর্বোচ্চ ১ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ গুণিত হবে। একই জরিমানা প্রযোজ্য হবে তাদের ক্ষেত্রেও, যারা ভিজিট ভিসাধারীদের মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলোতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরিবহন করেন বা করতে যান, কিংবা তাদের হোটেল, অ্যাপার্টমেন্ট, বাসা, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বা হজযাত্রীদের আবাসনে আশ্রয় দেন বা দিতে যান। এমনকি যারা তাদের অবস্থান গোপন করেন বা থাকার জন্য সহায়তা করেন, তারাও এই জরিমানার আওতায় পড়বেন। প্রতিটি আশ্রিত, গোপনকৃত বা সহায়তা পাওয়া ব্যক্তির জন্য জরিমানার পরিমাণ গুণিত হবে। যারা অবৈধভাবে হজ পালনের চেষ্টা করবেন তারা সৌদি আরবে বৈধভাবে বসবাসকারী হোন বা ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হন তাদের বিরুদ্ধে পৃথক শাস্তির বিধান রয়েছে। এসব ব্যক্তিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং ১০ বছরের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।
সৌদি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যদি হজ মৌসুমে ভিজিট ভিসাধারীদের পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত যানবাহনটি অভিযুক্ত পরিবহনকারী, সহায়তাকারী বা সহযোগীর মালিকানাধীন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট আদালতে সেটি জব্দ করার আবেদন জানানো হবে।
