সাত দফা দাবিতে দেশের নার্সিং কলেজগুলোতে শাটডাউন অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগসহ অন্যান্য দাবিতে গত ২৯ এপ্রিল থেকে এই শাটডাউন কর্মসূচি চলছে।
দাবি মানা না পর্যন্ত এই শাটডাউন কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা নার্সিং কলেজের স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সভাপতি মহিব উল্যাহ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ শাটডাউন। যতদিন না বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতি মেনে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে, ততদিন এই কর্মসূচি চলবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি কলেজ পাঁচটি ও বেসরকারি ৭২টি। বেসরকারি কলেজে সম্পূর্ণ শাটডাউন না হলেও সরকারিগুলোতে সম্পূর্ণ শাটডাউন চলছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনের নার্সিং কলেজগুলো কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এসব কলেজে পরীক্ষা চলছে, কিন্তু শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে না। শাটডাউন চলাকালে শিক্ষার্থীরা ক্লাস, ক্লিনিক্যাল প্রাকটিস, হাসপাতাল, ল্যাব সবকিছু বর্জন করছে। এমনকি আমরা পরীক্ষাও বর্জন করেছি।’
এই নার্সিং ছাত্রনেতা আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স চলমান। অথচ দীর্ঘদিন ধরে দুজন ডিপ্লোমা নার্স শিক্ষক হিসেবে এই কোর্স পরিচালনা করছেন। তারা কোনো ধরনের নিয়মনীতি মানছেন না।’
গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঢাকা নার্সিং কলেজ শাটডাউন কর্মসূচি চলাকালে নার্সিং শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অর্গানাইজেশনের সভাপতি মহিব উল্যাহ। এ সময় ঢাকা নার্সিং কলেজের ছাত্র হল সভাপতি মো. আজিজুর রহমান রিফাতসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা জানান, সাত দফা দাবিতে জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত ২১ আগস্ট থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে স্মারকলিপি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আজ রবিবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে আরেকটি স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শুধু ৩০-৪০ বছরের অভিজ্ঞতার নামে হাসপাতাল থেকে তুলে এনে সরাসরি প্রভাষক হিসেবে পদায়ন করে নার্সিং শিক্ষাকে সার্কাসে পরিণত করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতরা ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি, ২০১৬ সালের নার্সিং নিয়োগ বিধি, স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইয়েড কলেজগুলোর নীতিমালা ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শুধু পেশিশক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে পেশাকে জিম্মি করে রেখেছে।
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ, গ্র্যাজুয়েট নার্সদের সরাসরি প্রথম শ্রেণির নিয়োগ, বিএসসি নার্সদের জন্য স্বতন্ত্র অর্গানোগ্রাম ও ক্যারিয়ার প্ল্যান প্রণয়ন, ২০১৬ সালের নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন, সার্বজনীন ইন্টার্ন ভাতা ২০ হাজার টাকায় উন্নীতকরণ ও সারা দেশে চলমান প্রাইভেট কলেজ ইনস্টিটিউটগুলোর জন্য সার্বজনীন নীতিমালা প্রণয়ন।
এ ছাড়া ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন নার্সিং (বিএসএন) চালুকরণ ও সমমান ডিগ্রিধারীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করিয়ে বিএসসি সমমান করা এবং ২০১৮ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত নিম্নমানের কারিকুলামের অধীনে বিএসসি ইন নার্সিংয়ে অধ্যয়নরত সবাইকে ২০০৮ সালের কারিকুলামের সঙ্গে মার্জ করার দাবিও জানানো হয়।
