আলোচিত আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ কখনো পিএইচডি সম্পন্ন করেননি—এমনটাই লিখিতভাবে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস। তাদের বক্তব্য, তুরিন আফরোজ নামে কারও পিএইচডি ডিগ্রির কোনো রেকর্ড তাদের কাছে নেই; এমনকি এই নামে কেউ ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন বলেও কোনো তথ্য মিলেনি।
রাষ্ট্রপক্ষ এই চিঠি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এক মামলার শুনানিতে উপস্থাপন করেছে। আজ রবিবার ‘বাড়ি সংক্রান্ত’ এক মামলায় এই তথ্য আদালতে দাখিল করা হয় বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হায়দার।
গত ১৩ মার্চ মামলাটির এক শুনানিতে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক আদালতকে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তুরিন আফরোজ তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
তিনি আরও জানান, সেই সময় তিনি এতটাই প্রভাবশালী ছিলেন যে, এক মুহূর্তে নিজের মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এই প্রেক্ষাপটে উত্তরার বাড়িতে তার মায়ের বসবাসের জন্য আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এই শুনানি হয় বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে, হাইকোর্টের এক রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে।
মামলার পটভূমিতে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এক রায়ে রাজধানীর উত্তরার পাঁচতলা বাড়ির ওপর দেওয়া বিচারিক আদালতের ‘স্থিতাবস্থা’ আদেশ বাতিল করে দেন। ফলে বাড়িটিতে তুরিন আফরোজের মা শামসুন্নাহার বেগম ও ভাই শাহনেওয়াজ আহমেদের বসবাসে আর কোনো আইনগত বাধা রইল না বলে জানান আইনজীবীরা।
এই রায় দেন বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ। মামলায় শাহনেওয়াজের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, বিএম ইলিয়াস কচি, ব্যারিস্টার মনজুর রাব্বী ও ব্যারিস্টার আতিকুল হক। তুরিন আফরোজের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাইফুল করিম।
সেদিন আদালতে ব্যারিস্টার আতিকুল হক বলেন, বাড়ির মালিকানা ও দখল নিয়ে উদ্ভূত বিরোধের প্রেক্ষাপটে বিচারিক আদালতের ‘স্থিতাবস্থা’ আদেশ হাইকোর্ট বাতিল করেছেন। এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে, ওই বাড়িতে শামসুন্নাহার বেগম ও শাহনেওয়াজের বসবাসে কোনো আইনগত বাধা নেই।
তিনি আরও জানান, রাজধানীর উত্তরার রেসিডেনসিয়াল মডেল টাউনের ১১ নম্বর সড়কের ৩ নম্বর সেক্টরের ১৫ নম্বর প্লটে অবস্থিত পাঁচতলা বাড়িটিতে ২০০২ সাল থেকে বসবাস করছিলেন শামসুন্নাহার বেগম ও তার ছেলে শাহনেওয়াজ। তবে ২০১৭ সালে তুরিন আফরোজ তার ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাদের সেখান থেকে বের করে দেন।
পরবর্তীতে উভয় পক্ষই বাড়ির ভোগদখল ও মালিকানা দাবি করে ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দুটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করে। ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর শুনানি শেষে ওই আদালত বাড়ির ভোগদখল নিয়ে স্থিতাবস্থা আদেশ দেন। পরে শাহনেওয়াজ এই আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে আপিল করলে ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি জেলা জজ আদালত তা বহাল রাখে। এরপর একই বছরের মার্চ মাসে শাহনেওয়াজ হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন দায়ের করেন।
২০২৩ সালের ২ এপ্রিল বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ উত্তরার ওই বাড়ির ভোগদখলের বিষয়ে স্থিতাবস্থা আদেশ কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি বিচারপতি মো. সেলিমের বেঞ্চে স্থানান্তর হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মো. সেলিম রুল যথাযথ ঘোষণা করে স্থিতাবস্থা বাতিল করে দেন। এর ফলে বাড়িটিতে শামসুন্নাহার বেগম ও শাহনেওয়াজের বসবাসে আর কোনো আইনগত বাধা নেই।
ব্যারিস্টার আতিকুল হক জানান, এখন বিচারিক আদালতে মালিকানা ও ভোগদখল সংক্রান্ত দুটি মামলা নিয়মিতভাবে চলবে।
উল্লেখ্য, আদালতে দায়ের করা মামলার আবেদনে তুরিন আফরোজ দাবি করেছেন, তার মা শামসুন্নাহার ১৯৯১ সালে উত্তরার ওই সম্পত্তি ক্রয় করেন। ১৯৯২ সালে তিনি তার স্বামী তসলিম উদ্দিনকে ক্ষমতা অর্পণ করে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তসলিম উদ্দিন তার মেয়ে তুরিন আফরোজকে ওই সম্পত্তি হেবা (দানপত্র) করেন।
অন্যদিকে, শামসুন্নাহার ও তার ছেলে শাহনেওয়াজ আদালতে লিখিত জবাবে জানান, তসলিম উদ্দিন কখনো তার মেয়ে তুরিন আফরোজকে বাড়ি হেবা করেননি। বরং শামসুন্নাহার নিজেই ১৯৯৭ সালে তার ছেলে শাহনেওয়াজকে ওই সম্পত্তি দানপত্রের মাধ্যমে প্রদান করেন। এরপর ১৯৯৯ সালে শাহনেওয়াজের নামে জমির নামজারি সম্পন্ন হয় এবং হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন থেকে ২৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে রাজউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণ করা হয়, যেখানে ২০০২ সাল থেকে তারা বসবাস করে আসছেন।
তারেক-বাবরের খালাসের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি মঙ্গলবার
নারায়ণগঞ্জে কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
‘পাকিস্তান সংঘাত নয় শান্তি চায়’