নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশে সন্নিবেশিত বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্কের সাজা-সংক্রান্ত বিধানের বৈধতা প্রশ্নে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ-সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল দেয়। রুলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশে সন্নিবেশিত বিয়ের প্রলোভনে শাস্তি সম্পর্কিত বিষয়টি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছে আদালত।
গত ২৫ মার্চ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনের সংশোধনী এনে অধ্যাদেশের গেজেট জারি করে সরকার। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৫-এর ধারা ৯(ক)-এর পরে নতুন ধারা ৯(খ) সন্নিবেশিত করা হয়। এ ধারার অর্থ হলো, যদি কোনো ব্যক্তি দৈহিক বলপ্রয়োগ ছাড়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৬ বছরের বেশি বয়সের কোনো নারীর সঙ্গে যৌনকর্ম করেন এবং যদি ওই ঘটনার সময় ওই ব্যক্তির সঙ্গে ওই নারীর আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তি অনধিক সাত বছর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবেন। এ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থদন্ডে দ-নীয় হবেন। তবে, সংশোধনী নিয়ে আইনজীবী ও নারী অধিকারকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
আইনের এ বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৭ এপ্রিল অ্যাডভোকেট মো. রাশিদুল হাসান এবং মানবাধিকার সংগঠন ‘এইড ফর ম্যান ফাউন্ডেশনে’র পক্ষে একটি রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। আবেদনের যুক্তিতে তিনি বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক দুজন পুরুষ ও নারী সজ্ঞানেই সম্পর্কে জড়ান। এখন কোনো কারণে সম্পর্কের অবনতি হলে বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্কের অপরাধে শুধু পুরুষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দেওয়ার বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
এ ছাড়া আইনে প্রলোভন শব্দটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রলোভন মানে কোনো কিছুর লোভ দেখানো। আইনের এই শব্দচয়নে নারীদের লোভী হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা নারীদের জন্য চরম অবমাননাকর। এরই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি শুনানিতে আসে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইনের বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুল দিয়েছে।
