রংপুরে মির্জা আব্বাস

পানিকে মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত

আপডেট : ০৫ মে ২০২৫, ০৭:৩২ এএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, পানি কখনো মারণাস্ত্র হতে পারে না, যুদ্ধের অস্ত্র হতে পারে না। অথচ একমাত্র ভারত বিশ্বকে দেখিয়ে দিল, পানি তারা যুদ্ধের মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

গতকাল রবিবার বিকেলে তিস্তা চুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গণপদযাত্রার আগে নগরীর শাপলা চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা ভারতের কাছে পানির ন্যায্য হিস্যা চাই। আজ না হোক, কালকে আমাদের পাওনা ঠিকই বুঝিয়ে দিতে হবে। শুধু সরকারের অপেক্ষায় আছি। আমাদের তিস্তার পানি দিতে হবে। ফারাক্কার পানি চাই। যেখানে যেখানে পানি দরকার, সেখানে সেখানে পানি দিতে হবে। কিছুদিন আগে যে সরকার ছিল, তারা সরকারে থাকার ইচ্ছে থেকে ভারতের সঙ্গে এসব হিসাব করেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেক আগেই পানির ন্যায্য হিস্যা পেতাম, যদি হাসিনার মতো একটা সন্ত্রাসী সরকার না আসত। এ পানির বিষয়ে তারা ভারতের কাছে কিছু বলতে পারেনি।’

এ সময় আসাদুল হাবীব দুলুকে উদ্দেশ্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘দুলু উত্তরবঙ্গের একজন প্রতিবাদী মুখ। একজন কৃতী সন্তান। তাই দুলু তুমি সাবধানে থাকবে। কেননা ভারত কখনো এ ধরনের প্রতিবাদী মুখ সহ্য করতে পারে না। ইতিপূর্বে শুধু সুরমা নদীর বাঁধের জন্য আমাদের ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে।’

মির্জা আব্বাস এ সময় তিস্তা নদী নিয়ে আন্দোলনের আয়োজনের প্রশংসা করেন। এ ছাড়া তিস্তা আন্দোলন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ আন্দোলনের সঙ্গে থাকার অঙ্গীকার করেন। তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলুর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকু, বিএনপি নেতা এমদাদুল হক ভরসা প্রমুখ।

এদিকে এ গণপদযাত্রা কেন্দ্র করে দুপুর ১টার পর থেকেই তিস্তা নদীবেষ্টিত বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে লোকজন আসতে শুরু করেন। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। সময় যত বাড়ে লোকজনের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে নগরীর শাপলা চত্বর এলাকা। শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে তা রংপুর জিলা স্কুল মাঠ ছাড়িয়ে যায়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষক সংগঠন, শ্রমজীবী মানুষ, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ এ গণপদযাত্রায় অংশ নেন।

এর আগে নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে তিস্তাপাড়ের মানুষজন ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে পাঁচ জেলার ১১ পয়েন্টে তাঁবু খাটিয়ে একই সময়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সংহতি প্রকাশ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমাপনী অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ব্যতিক্রমধর্মী এ কর্মসূচিতে পাঁচ জেলার লাখো মানুষ অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত