ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকা গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযানের মাত্রা বাড়াতে হাজারো রিজার্ভ সেনা তলব করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ। গতকাল সোমবার ইসরায়েলি গণমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় অভিযান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দিয়েছে। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা টাইমস অব ইসরায়েলকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযানের মাত্রা বাড়ানোর মূল লক্ষ্য গাজাকে পুরোপুরি দখলে নেওয়া। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের পর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার কথা ভাবছে ইসরায়েল। এর আগ পর্যন্ত জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে পৌঁছাতে হামাসের সঙ্গে আলোচনা প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে।
ইসরায়েলের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী রয়েছেন। তারা সর্বসম্মতভাবে এই পরিকল্পনার অনুমোদন দেন। ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা বলেছেন, অনুমোদন পাওয়া পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে গাজা উপত্যকার দখল, সেখানকার দখল করা এলাকাগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং গাজার বাসিন্দাদের উপত্যকার দক্ষিণে সরিয়ে নেওয়া। এর আগে, গত রবিবার ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির গাজায় হামলা সম্প্রসারণের জন্য হাজারো রিজার্ভ সেনাকে তলবের কথা জানান। জামির বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে আমরা গাজায় অভিযান সম্প্রসারণ ও এর তীব্রতা বাড়াতে হাজারো রিজার্ভ সেনাকে খসড়া আদেশ পাঠাচ্ছি। আমরা জিম্মিদের মুক্ত ও হামাসকে পরাজিত করতে চাপ আরও বাড়াচ্ছি।’
হামাসের সব ধরনের অবকাঠামো ধ্বংস করার হুঁশিয়ারিও দেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। গাজার আয়তন ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার। বার্তা সংস্থা এএফপির হিসাবে, বর্তমানে গাজার ১৮৫ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা উপত্যকাটির মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ শতাংশ। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, গাজা দখলে নিতেই নতুন করে অভিযান সম্প্রসারণ ও তীব্র করছে ইসরায়েল। ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এতে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা ৫২ হাজার ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছে লক্ষাধিক এবং ঘরছাড়া হয়েছে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি।
