এইচআরএসএস’র প্রতিবেদন 

এপ্রিলে ৮৮ নারী ধর্ষণের শিকার, রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১১ 

আপডেট : ০৬ মে ২০২৫, ০৯:৫৭ পিএম

গত এপ্রিল মাসে কমপক্ষে ১৯৬ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮৮ জন, যাদের মধ্যে ৫২ (৫৯%) জন ১৮ বছরের কম বয়সী। এছাড়া ১৯ নারী ও শিশু সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার এবং তার মধ্যে হত্যা করা হয়েছে ৬ জনকে। গত মাসে কমপক্ষে ১০৫ জন শিশু নির্যাতনের শিকার; যাদের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে ১৫ জন এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ৯০ শিশু।

মঙ্গলবার (৬ মে) মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি’র (এইচআরএসএস) মাসিক পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। 

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় জানা গেছে, এপ্রিলে ৭৮টি রাজনৈতিক সহিংসতায় মারা গেছেন ১১ জন। আহত হয়েছেন ৭২৭ জন। নিহত ১১ জনের মধ্যে বিএনপির ৮ জন ও আওয়ামী লীগের ৩ জন। এপ্রিল মাসে সহিংসতার ৭৮টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৩৯টি ঘটনায় ৭ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ৪৬৭ জন। বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে ২৫টি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ২০২ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭৮টি সহিংসতার ঘটনার ৬৯টিই ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ও বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে।

এতে আরও বলা হয়, গত মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিলে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জামায়াত-এনসিপির সংঘর্ষ কমেছে। এর আগে গত মার্চে মাসে ৯৭টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ২৩ জন এবং আহত হয়েছিলেন ৭৩৩ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিল মাসেও মানবাধিকার পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। এই মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাজনৈতিক সহিংসতায় মৃত্যু, নারী নিপীড়ণ ও ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, গণপিটুনিতে নির্যাতন ও হত্যা, শ্রমিক নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, কারাগারে ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা অব্যহত রয়েছে। 

এইচআরএসএস’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে অন্তত ২৯টি ঘটনায় কমপক্ষে ৩৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এছাড়া এ মাসে গণপিটুনির ২২টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১২ জন এবং আহত ২১।

গত মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ১০টি হামলার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ ) কর্তৃক ৫ জন বাংলাদেশি নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
  
এছাড়া এ মাসে ২৪টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫ জন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১৪ জন। এ মাসের শেষ দশকে সারাদেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে কমপক্ষে ১২ হাজার ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৭ হাজার ৯০০ ও অন্যান্য মামলায় ৪ হাজার ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ মাসে সারাদেশে কারাগারে কমপক্ষে ৯ জন আসামি মারা গিয়েছেন। এর মধ্যে ২ জন কয়েদী ও ৭ জন হাজতি। এদের মধ্যে ২ জন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত