সাহিত্যবিশ্ব

মৈত্রেয়ী দেবীর পারিবারিক সংগ্রহে রবীন্দ্রনাথ

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৭ এএম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের শেষ কয়েক বছরের সৃষ্টিশীলতা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও শিল্পচর্চার অজানা অধ্যায় সামনে আনতে ভারতের মুম্বাইয়ে বসছে বিশেষ প্রদর্শনী। নোবেলজয়ী কবির দুর্লভ চিঠি, হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি, চিত্রকর্ম, আলোকচিত্র ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী নিয়ে আয়োজনটির নাম ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অ্যান্ড মংপু : দ্য কালেকশন অ্যান্ড আর্কাইভ অব মৈত্রেয়ী দেবী’। ১০ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ মুম্বাইয়ে ক্রিস্টিজের প্রদর্শনীস্থলে এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

প্রদর্শনীর উপাদানগুলো সংরক্ষিত ছিল কবির ঘনিষ্ঠজন ও শিষ্য, লেখক মৈত্রেয়ী দেবীর পরিবারের ব্যক্তিগত সংগ্রহে। ক্রিস্টিজের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রথম সংগ্রহটির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জনসাধারণের সামনে আনা হচ্ছে। এতে রয়েছে ২৫টির বেশি শিল্পকর্ম, ১৫০টির বেশি চিঠি ও হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি, রবীন্দ্রনাথের স্বাক্ষরযুক্ত বইয়ের প্রথম সংস্করণ, পুরোনো আলোকচিত্র এবং তাঁর ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সামগ্রী।

এই সংগ্রহের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি জনপদ মংপু। ১৯৩৮ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে চারবার মৈত্রেয়ী দেবীর পরিবারের বাড়িতে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। জীবনের শেষ পর্বে এই পাহাড়ি পরিবেশ তার অবকাশ ও সৃষ্টিশীলতার বিশেষ আশ্রয় হয়ে উঠেছিল। ১৯৪১ সালে তার মৃত্যুর আগের সময়ের নানা স্মৃতি ও নিদর্শন ছড়িয়ে আছে এই পারিবারিক আর্কাইভে।

প্রদর্শনীর উল্লেখযোগ্য উপাদানগুলোর একটি ১৯৪০ সালের হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি। কিউরেটর নিশাদ আভারির ধারণা, এটি রবীন্দ্রনাথের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ছেলেবেলার খসড়া। শৈশবের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি এতে বিদ্যুৎ ও মোটরগাড়ির মতো নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাবে বদলে যাওয়া সময়ের কথাও রয়েছে। প্রদর্শনীতে থাকা ১০টি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপির মধ্যে এটিই একমাত্র, যা রবীন্দ্রনাথ মৈত্রেয়ী দেবীকে ডিকটেশন দিয়ে লিখিয়েছিলেন।

সংগ্রহে রয়েছে মৈত্রেয়ী দেবীর একটি প্রতিকৃতি, মংপুর অরণ্যের দৃশ্য নিয়ে আঁকা একটি চিত্র এবং রবীন্দ্রনাথের রেখে যাওয়া একটি কুর্তা ও লুঙ্গি। চিঠি ও পাণ্ডুলিপির বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া ছোট ছোট আঁকিবুঁকি এবং কাটাকুটি তাঁর সাহিত্যচর্চা ও চিত্রকলার মধ্যকার যোগসূত্রও তুলে ধরে।

প্রদর্শনীটি বসছে রবীন্দ্রনাথের জন্মের ১৬৫ বছর এবং ক্রিস্টিজের (Christie’s) প্রতিষ্ঠার ২৬০ বছর পূর্তির বছরে। ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী প্রথম অ-ইউরোপীয় হিসেবে বিশ্বসাহিত্যে তার অবস্থান যেমন স্বীকৃত, তেমনি ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা হিসেবেও তার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার বিস্তৃত। প্রদর্শনীটি ১০ নভেম্বর মুম্বাইয়ের ধনরাজ মহল, অ্যাপোলো বান্দরের ক্রিস্টিজ স্পেসে শুরু হবে। প্রবেশ সবার জন্য উন্মুক্ত এবং বিনা মূল্যে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান, ক্রিস্টিজ

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত