বিদ্যুৎ, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করতে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। এ সময় ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেন উপস্থিত ছিলেন। ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বিভাগের সদস্য সালেহ আহমেদ এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিসিইসিসি) চেয়ারম্যান লি চিংইয়াং সিআরসিসির পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় সিআরসিসি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, রেল সরঞ্জাম সংযোজন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ যাচাই করবে। এ ছাড়া রাসায়নিক, চিনি ও খাদ্যশিল্প এবং ইস্পাত ও প্রকৌশল খাতের কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও বিবেচনা করবে চীনা প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে সহায়তা করবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। তবে সমঝোতা স্মারকটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। এর মাধ্যমে কোনো পক্ষের জন্য বিশেষ বিনিয়োগ সুবিধা বা অগ্রাধিকারও তৈরি হবে না।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের প্রতিনিধিদল বিনিয়োগ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করে। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
চীনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেন। তার সঙ্গে সিআরসিসি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় নতুন দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। প্রকল্পটির আওতায় জেটি দুটি নির্মাণ করছে সিআরসিসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিসিইসিসি।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রকৌশল ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠান সিআরসিসি। আয়ের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ৫৭তম। ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সামার দাভোস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
দেশে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক প্রকল্প চিহ্নিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও এ বিনিয়োগ সহযোগিতা ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।