জামায়াত নেতা আজহারের আপিলের শুনানি শুরু

আপডেট : ০৭ মে ২০২৫, ০৭:৩১ এএম

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদ-ের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। সর্বোচ্চ আদালত গতকাল শুনানি নিয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। এর মাধ্যমে সাড়ে ৪ বছরের বেশি সময় পর আজহারুলের রিভিউ (মৃত্যুদ-ের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন) ও এ থেকে উদ্ভূত আপিলের ওপর শুনানি শুরু হলো।

আজহারুলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। শুরুতে তিনি আজহারুলকে কোন কোন অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আপিল বিভাগ কী সাজা দিয়েছে, তা তুলে ধরেন। এরপর সংক্ষিপ্ত আদেশের মাধ্যমে জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর, আজহারুলের বিরুদ্ধে সাক্ষীদের বক্তব্যে অসংগতি, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনে আন্তর্জাতিক আইনের প্রযোজ্যতাসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এর আগে গত ২২ এপ্রিল শুনানির জন্য ৬ মে দিন ধার্য করেছিল আপিল বিভাগ।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আজহারুল ইসলামকে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুদ-াদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে গণহত্যাসহ তিনটি অভিযোগে তাকে ফাঁসি, অপহরণ ও নির্যাতনের একটি অভিযোগে ২৫ বছর এবং আরেকটি অভিযোগে পাঁচ বছর কারাদ-াদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। পরে অভিযোগ থেকে খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেন আজহারুল। আপিলের ওপর শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর তার মৃত্যুদ- বহাল রেখে রায় দেয় আপিল বিভাগ। এ ছাড়া ২৫ বছরের কারাদ-ের অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয় সর্বোচ্চ আদালত। পরে আপিল বিভাগের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই আইনজীবীর মাধ্যমে রিভিউ আবেদন করেন আজহারুল। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি শুনানিতে আসে।

অ্যাডভোকেট শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘রিভিউ থেকে উদ্ভূত আপিল মামলাটির আজকে (গতকাল) প্রায় ৯০ ভাগ শুনানি হয়ে গেছে। বাকি ১০ ভাগ শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার ধার্য হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা শুনানিতে বলেছি, রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে জামায়াত নেতাদের আগে ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। তিনি (আজহারুল) এখনো বেঁচে আছেন। তার ফাঁসি কার্যকরে যে রায় দেওয়া হয়েছিল, এটিও রাজনৈতিক বিবেচনায় তাকে টার্গেট করা হয়েছিল।’

আইনজীবী আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক আইনের প্রযোজ্যতা হবে না, এই মর্মে আপিল বিভাগ আগে রায় দিয়েছে। আমরা বলেছি, আন্তর্জাতিক আইনের প্রযোজ্যতা ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালের অধীন কিংবা এই ট্রাইব্যুনালে বিচার করা সম্ভব নয়। আমরা আশা করব আপিল বিভাগ এখানে আন্তর্জাতিক আইনের প্রযোজ্যতা ইতিবাচকভাবে দেখবে।’

অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ‘অতীতে অবিচারের মাধ্যমে যাদের মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে, কী পদ্ধতিতে কী ফাইন্ডিংয়ের কারণে, সবকিছুর বিষয়ে আমরা শুনানি করেছি। আমরা আশা করব, আপিল বিভাগ বিষয়গুলো বিবেচনায় নেবেন।’

এর আগে রিভিউ চেয়ে আজহারুলের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) মঞ্জুর করে আদেশ দেয়। একই সঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে নির্দেশ দেয় আদালত। পরে আজহারুলের আইনজীবীরা আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেন। এর মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো মামলায় এই প্রথম রিভিউ থেকে কোনো মামলা আপিলের পর্যায়ে গেল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত