রাস্তা ছাড়াই নির্মাণ হচ্ছে ৫ কোটি টাকার সেতু

আপডেট : ০৮ মে ২০২৫, ০১:৪৫ এএম

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার দক্ষিণ শ্রী নারায়ণকান্দি গ্রামে রাস্তা ছাড়াই ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। খালের ওপর নির্মিত সেতুটির এক পাশে কেবল ফসলি জমি, অন্য পাশে ভাঙাচোরা কাঁচা রাস্তা। সেতুর আশপাশে নেই কোনো বড় জনবসতি, বাণিজ্যকেন্দ্র কিংবা চলাচলের বাস্তব রুট।

স্থানীয়দের ভাষায়, এটা সেতু নয়, যেন একা দাঁড়িয়ে থাকা কংক্রিটের স্থাপনা। কারণ যাতায়াতের জন্য সেতুটির বাস্তবে কোনো প্রয়োজনীয়তা স্থানীয়রা খুঁজে পাচ্ছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই একই খালের ওপর মাত্র ৭০০ মিটার দূরেই আরও একটি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৫ কোটি টাকা। দুটি সেতুর মাঝখানে রয়েছে চাষাবাদের জমি। এর মাঝে কোনো গ্রামীণ সড়ক বা ঘনবসতির আবাস নেই। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘একই খালে ৭০০ মিটার দূরত্বে দুটি সেতু! এটা কোনো পরিকল্পনা ছাড়া এমনিতেই করা হচ্ছে। যেটা অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেতু নির্মাণের স্থান বলরামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রী নারায়ণকান্দি গ্রামে। প্রবেশমুখে একটি ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো সেতু, এরপর প্রায় দেড় কিলোমিটার ভাঙাচোরা কাঁচা রাস্তা। রাস্তার শেষ প্রান্তে বায়তুল জান্নাত কুয়েতি জামে মসজিদের সামনে সেতু নির্মাণ চলছে। সেতুর পশ্চিম পাশে ওই মসজিদ পর্যন্তই মানুষের চলাচল রয়েছে। এরপর আর কোনো রাস্তা নেই। পূর্ব পাশে পুরোপুরি ফসলি জমি। এ বিষয়ে কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমরা এই খালের ওপর দিয়ে সারা বছর ধান, গম, শাকসবজি চাষ করি। এখানে যদি সেতু দরকারই হতো, তাহলে অন্তত রাস্তা থাকতে হতো। এখন শুধু খাল আর জমির ভেতর দিয়ে সেতু বসিয়ে দিয়েছে।’

এদিকে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। সেতুর দৈর্ঘ্য ৪৫ মিটার ও প্রস্থ ৯ মিটার। প্রকল্প মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত, যা বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রকল্পে সেতুর দুই পাশে ১১০ মিটার সংযোগ রাস্তার জন্যও বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই রাস্তার কোনো অস্তিত্ব নেই। কাজের ৬০ শতাংশ অগ্রগতি হলেও সংযোগ রাস্তা কবে হবে তা নিশ্চিত নন স্থানীয়রাও। স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্পটা আমাদের জানিয়ে করা হয়নি। দুপাশে রাস্তা না থাকা অবস্থায় সেতু নির্মাণ অর্থহীন। এখানে সেতু নয়, আগে রাস্তা দরকার ছিল।’

এ বিষয়ে তিতাস উপজেলা প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছরের জুনে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। এরপর সংযোগ রাস্তার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ একই খালে ৭০০ মিটার দূরত্বে দুটি সেতু নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলাকাবাসীর প্রয়োজনেই দুটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত