বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল মামলাটি পুনরুজ্জীবনের আবেদনের ওপর শুনানি হবে আগামী ১৩ মে মঙ্গলবার। গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ শুনানির দিনটি ধার্য করে। জামায়াতের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি গ্রহণের আরজি জানালে আদালত দিনটি ধার্য করে।
শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘জামায়াতের নিবন্ধন মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে উপস্থাপন করেছি। আমি বলার চেষ্টা করেছি যে, মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। না হলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। আপিল বিভাগ এ বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং অতীতে মামলাটি যে বেঞ্চে আংশিক শ্রুত হয়েছিল সেই বেঞ্চে শুনানির জন্য মঙ্গলবারে (১৩ মে) আসবে বলে জানিয়েছে।’
২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে এ নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, জাকের পার্টি, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ ২৫ রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি। ওই বছরের ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়া নিবন্ধনের বৈধতা প্রশ্নে রুল দেয়। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের একটি বৃহত্তর বেঞ্চ।
এ রায় স্থগিত চেয়ে জামায়াতের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করলে একই বছরের ৫ আগস্ট সেটি খারিজ হয়ে যায়। পরে ওই বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াত। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগ জামায়াতের করা আপিল খারিজ করে রায় দিলে হাইকোর্টের রায়টি বহাল থাকে। আপিলের শুনানিতে জামায়াতের পক্ষের আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় আদেশে সর্বোচ্চ আদালত উল্লেখ করে ‘ডিসমিসড ফর ডিফল্ট’। এরপর জামায়াতের পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির মামলাটি পুনরুজ্জীবনে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন।
