যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের নতুন বাণিজ্য চুক্তি

আপডেট : ১০ মে ২০২৫, ০৭:২১ এএম

যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ফিরেই বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করে বাণিজ্যযুদ্ধের অশনি সংকেত বাজিয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও পরে তা তিন মাসের জন্য স্থগিতের নির্দেশ দেন ট্রাম্প, তবুও আসন্ন বাণিজ্য ধাক্কা মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ রয়েই গেছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে এক যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে পাশে নিয়ে বৃহস্পতিবার এই চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, এটা ট্রাম্পের এক ধরনের বিজয় ও শুল্কযুদ্ধের প্রথম উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

শুক্রবার এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২ এপ্রিল থেকে মিত্র ও প্রতিপক্ষ- উভয়ের আমদানি পণ্যে কঠোর শুল্ক আরোপের পর এটাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো দেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক চুক্তি। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, শুল্ক আরোপের পর বিশ্বের অসংখ্য দেশ বাণিজ্য চুক্তির জন্য তার দরজায় ধরনা দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে, শুল্ক আরোপের এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এটাই প্রথম, বড় আনুষ্ঠানিক চুক্তি। এর আগে, বুধবার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে ট্রাম্প বলেন, একটি ‘বিশাল ও খুবই সম্মানিত দেশের’ সঙ্গে বড় বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেবেন তিনি। এএফপির প্রতিবেদনে চুক্তির উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো জানানো হয়েছে।

বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি

চুক্তি অনুযায়ী, এপ্রিলে অধিকাংশ বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ ‘বেসলাইন’ শুল্ক বেশিরভাগ পণ্যের ক্ষেত্রেই বহাল থাকছে। তবে যেসব নির্দিষ্ট খাতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল সেসব ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানির জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলারের বাড়তি বাজার প্রবেশাধিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, নতুন এই শুল্কব্যবস্থা থেকে ট্রেজারি বিভাগ বাড়তি ৬ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করবে। চুক্তিটি আগামী জুলাইয়ের আলোচনার সময়সীমা সামনে রেখে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে। কারণ চুক্তি না হলে কয়েকটি দেশকে আরও বেশি হারে শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে। আটলান্টিক কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান জোশ লিপস্কি বলেন, এটা ছিল প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে সহজলভ্য সুযোগ। তিনি আরও বলেন, এটা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে ভবিষ্যতের আলোচনা জটিল হতে যাচ্ছে, কারণ যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি অনেক দিক থেকে অনন্য এবং অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে এমন কিছু পুনরাবৃত্তি করা কঠিন হবে।

ব্রিটিশ গাড়ি শিল্পে সাফল্য

চুক্তির অন্যতম লাভবান খাত হলো ব্রিটিশ অটোমোটিভ শিল্প। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কার্যালয়ের বরাতে জানা গেছে, প্রায় আড়াই লাখ কর্মসংস্থানের এই খাতটি পূর্বে ২৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ শুল্কের মুখে ছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ব্রিটেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এক লাখ গাড়ি রপ্তানিতে শুল্ক ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। এর বেশি গাড়িতে ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক বহাল থাকবে।

স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম

যুক্তরাষ্ট্র স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ বলেছে, নতুন চুক্তি উভয় দেশের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থরক্ষা করবে এবং স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম নিয়ে নতুন অংশীদারত্ব তৈরি করবে। তবে তারা শুল্ক শতভাগ প্রত্যাহার নিশ্চিত করেনি।

কৃষি খাত

ট্রাম্প জানিয়েছেন, নতুন চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, পশুপালক ও উৎপাদকদের জন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলারের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। যার মধ্যে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ইথানল রপ্তানি এবং ২৫০ মিলিয়ন ডলারের গরুর মাংসসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য, বিশেষ করে ক্লোরিনে ধোয়া মুরগি ও হরমোনযুক্ত গরুর মাংস নিয়ে ব্রিটিশ কৃষক ও ভোক্তাদের আপত্তি বহুদিনের। চুক্তিতে দুই দেশই গরুর মাংস রপ্তানি ও আমদানিতে পারস্পরিক বাজার প্রবেশাধিকার দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের কৃষকদের জন্য ১৩ হাজার টন গরুর মাংসে শুল্কমুক্ত কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিনস বলেছেন, এই চুক্তির ফলে আমাদের গরুর মাংস রপ্তানি অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের খাদ্যমান সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কোনোভাবেই শিথিল করা হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত