শিশুদের হতে পারে লুপাস

আপডেট : ১১ মে ২০২৫, ১২:৫০ এএম

সিস্টেমিক লুপাস এরিথেমাটোসাস (এসএলই) রোগটির সংক্ষিপ্ত নাম লুপাস। যা একটি অটোইমিউন রোগ। এই রোগে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও দেহকোষ আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে কিডনির লুপাস বা লুপাস নেফ্রাইটিস অন্যতম। শতকরা ২০ থেকে ৭৫ শতাংশ লুপাস রোগীর কিডনি আক্রান্ত হতে পারে। বড়দের ৩৪-৬৭ ভাগ ক্ষেত্রে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

কিডনির পাশাপাশি শিশুদের স্নায়ুতন্ত্র, রক্তরোগ, চামড়ার ক্ষত, গিরা, মাংসপেশি, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র এমনকি চুল পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে। রোগের প্রভাব এমন যে, মানবদেহে যেকোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আক্রান্ত হয়।

কাদের বেশি হয় : লুপাস সাধারণত ১১ থেকে ১২ বছর বয়সে হতে পারে। ৫ বছরের নিচে এই রোগ কম হতে দেখা যায়। এতে নবজাতক শিশুরাও আক্রান্ত হতে পারে। এই রোগে ছেলে বা মেয়েশিশু উভয়ই আক্রান্ত হয়।  তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে এই রোগের হার বেশি।

কারণ : এই রোগের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে কিছু বিষয় যেমন বংশগত প্রভাব, পরিবেশগত, ভাইরাসের সংক্রমণ এবং হরমোনজনিত প্রভাব রোগের বিস্তার এবং তীব্রতাকে প্রভাবিত করে। মূলত এটি অটোইমিউন ডিজঅর্ডার। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ত্রুটির জন্য এ রকম হয়। যখন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তার নিজের কোষ এবং অঙ্গকে আক্রমণ শুরু করে এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে তখন রোগটির সংক্রমণ হয়।

লক্ষণ : এই রোগে আক্রান্ত রোগীর উপসর্গগুলো মৃদু থেকে গুরুতর হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে জ¦র প্রচ- ক্লান্তিবোধ চুল পড়া মুখে ঘা রোদে সংবেদনশীলতা সারা শরীরে লালচে র‌্যাশ, মুখের র‌্যাশের ধরনকে বাটারফ্লাই র‌্যাশ বলা হয়। ওজন কমে যাওয়াপ্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন হওয়াশরীর ফুলে যাওয়া উচ্চ রক্তচাপ গিরা ব্যথা বা ফুলে যাওয়া মাথাব্যথাচোখে দেখতে অসুবিধাখিঁচুনি কাশিশ্বাসকষ্টপেট ব্যথা।

রোগ নির্ণয় : রোগের লক্ষণ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় সম্ভব।রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষাপ্রস্রাব পরীক্ষাকিডনির টিস্যু পর্যবেক্ষণ

চিকিৎসা : এই রোগের চিকিৎসা দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যেতে হয়। এই রোগের কোনো স্থায়ী নিরাময় নেই। চিকিৎসার উদ্দেশ্য হলো এর ব্যাপকতা কমানো বা রোধ করা। আক্রান্ত অঙ্গগুলোকে অধিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা। কিডনির টিস্যু পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগ কোন পর্যায়ে আছে বের করা সম্ভব এবং পর্যায়ক্রমে রোগের চিকিৎসা করা যায়। কিছু ওষুধ সারাজীবন খেয়ে চিকিৎসা নেওয়া উচিত, যাতে রোগ জটিলতর বা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ক্ষতিসাধন না হয়।

লুপাস রোগের লক্ষণগুলো দেখা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এই রোগে আক্রান্ত রোগীর কিডনি, স্নায়ুতন্ত্রসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ আক্রান্ত হয়ে কার্যক্রমতা হ্রাস পেতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা নিলে এই লক্ষণগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত