যুদ্ধবিরতিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস কাশ্মীরিদের

আপডেট : ১১ মে ২০২৫, ০৭:৩৫ এএম

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সমঝোতাকৃত যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ভারতশাসিত কাশ্মীর জুড়ে স্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বসবাস করা কাশ্মীরিরা এই শান্তি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। শ্রীনগরের ২৫ বছর বয়সী রুমাইসা জান বলেন, আমি ভীষণ উদ্বিগ্ন ছিলাম কী হতে যাচ্ছে তা নিয়ে। এত প্রাণহানির পর এ যুদ্ধবিরতি সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ। আমরা শুধু শান্তি চাই- এই শত্রুতা আর দেখতে চাই না।

কাশ্মীরের উরি, কুপওয়ারা ও পুঞ্চের মতো এলাকা, যেখানে সীমান্ত সংঘর্ষের কারণে নিয়মিত প্রাণহানি ঘটে। সেসব অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষ আবার নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। কৃষকরা জমিতে ফেরার আর শিশুরা স্কুলে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য রফিক লোন বলেন, আমরা প্রতিদিন যুদ্ধের শব্দে ঘুম থেকে উঠতাম, এখন যেন আবার জীবনের স্বাদ পাচ্ছি। এই যুদ্ধবিরতি যেন দীর্ঘস্থায়ী হয়। বেশ কয়েকদিন ধরে লাইন অব কন্ট্রোলে টানা গোলাগুলি ও বিমান হামলার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন পার করছিলেন। অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের গ্রাম ছেড়ে শহরে নিয়ে এসেছিলেন, বহু স্কুল বন্ধ ছিল।

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরেও যুদ্ধবিরতি খবরে স্বস্তি ফিরেছে। যুদ্ধবিরতির ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তারা বিভিন্ন জায়গায় আনন্দ উল্লাস করছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন শহরে আনন্দ উৎসব করতে দেখা যায়। তারা বলছেন, এই যুদ্ধবিরতি পাকিস্তানের জন্য গৌরবের। একইসঙ্গে উত্তেজনা কমায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তারা। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের তীব্র সামরিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর। এর আগে দুদেশের মধ্যে বিমান হামলা, সীমান্তে গোলাগুলি এবং ড্রোন ব্যবহার নিয়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধবিরতি দুদেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও কূটনৈতিক বিরতি তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতের শান্তিপূর্ণ সংলাপের ভিত্তি হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত