আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার পর নোয়াখালী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াদুদ পিন্টুর বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত শনিবার মধ্যরাতে নোয়াখালী পৌরসভার জয়কৃষ্ণপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। যদিও গত বছরের ৫ আগস্ট পর থেকে আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু আত্মগোপনে রয়েছেন।
আবদুল ওয়াদুদের পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৭০ থেকে ৮০টি মোটরসাইকেল তাদের বাড়িতে ঢোকে। প্রতিটি মোটরসাইকেলে দু-তিনজন করে ছিল। তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ব্যক্তিরা বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে একটি কক্ষে আশ্রয় নেন।
ওয়াদুদের স্ত্রী সাবরিনা মাহজাবিন জয়ন্তী অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা বাড়ির নিচতলা ও দোতলার প্রতিটি কক্ষে হামলা-ভাঙচুর চালায় এবং মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তারা বাড়ির সামনে রাখা তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে নিচতলায় আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে এই তা-ব চালানো হয়। তাদের বাড়ির ভাড়াটিয়াদের ঘরেও হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা চলে গেলে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নেভান।
জয়ন্তী বলেন, হামলাকারীদের তিনি চিনতে পারেননি। তবে তারা হামলার শুরুতে জিয়ার সৈনিক সেøাগান দিয়েছিল। হামলা-ভাঙচুর করে তারা চলে যাওয়ার পর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিদর্শন করে গেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, ‘আমরা এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। আপনারা নিশ্চিত থাকেন এ হামলা-ভাঙচুর বিএনপির কেউ করেনি। আমাদের দল এ রকম হামলা সমর্থন করে না। এটা অন্য কেউ হতে পারে।’
সুধারাম থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, হামলাকারীরা ওই বাড়িতে ভাঙচুর করেছে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে এ পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। তা ছাড়া কে বা কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি।
