রাজধানীর মতিঝিলে নটর ডেম কলেজের ভবন থেকে পড়ে ধ্রুব ব্রত দাস (১৮) নামের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পরিবারের অভিযোগ, ধ্রুব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। সে কেন কমার্স ভবনে যাবে। কমার্স ভবন থেকে কেউ তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। ধ্রুবর কোনো বাজে অভ্যাস নেই। তার সঙ্গে কারও দ্বন্দ্বও ছিল না। তাহলে কেন এমন ঘটনা ঘটল। কলেজ কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ দেখাচ্ছে না। তারা কেউ মেডিকেলও আসেনি।
মৃত শিক্ষার্থীর বাবা বাণী ব্রত দাস বলেন, ‘আমার ছেলে নটর ডেম কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেবে। গতকাল সোমবার আমরা তার টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট আনতে কলেজে যাই। বাইরে থেকে জানতে পারি আমার ছেলে তিনতলা ভবনের ওপর থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দ্রুত একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলেকে ভবন থেকে কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। আমরা কলেজের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে চাই। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আমরা এর বিচার চাই।’
ওই কলেজের এক শিক্ষার্থী নাফিজ রহমান বলেন, ‘আমরা হঠাৎ একটি শব্দ পাই। বাইরে গিয়ে দেখি সে রক্তাক্ত অবস্থায় নিচে পড়ে আছে। পরে আমরা উদ্ধার করে নিয়ে আসি। বারান্দা থেকে অসাবধানবশত সে নিচে পড়ে যেতে পারে বলে ধারণা শিক্ষার্থীদের।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় মতিঝিলে নটর ডেম কলেজের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কলেজ কর্তৃপক্ষের কেউ ঢাকা মেডিকেল কলেজেও আসেননি।
আরও এক শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু: রাজধানীর কমলাপুরের একটি বাসায় আরাফাত (১৮) নামে নটর ডেম কলেজের এক শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। কলেজটির উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম বর্ষের ছাত্র। গতকাল রাত ৮টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা সহপাঠী বিশ^নাথ চৌধুরী ও রিমন চৌধুরী জানান, তারা তিনজনই নটর ডেমের প্রথম বর্ষের ছাত্র। কমলাপুর জসিম উদ্দিন রোডের ৩/১ নম্বর বাড়ির দোতলায় একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন তারা। দুপুরে কলেজ থেকে ফিরে যে যার রুমে রেস্ট করছিলেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠে আরাফাতের রুম ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান তারা। তখন প্রায় আঘঘণ্টা ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। একপর্যায়ে আশপাশের ভাড়াটিয়াদের ডেকে আনলে তাদের সহযোগিতায় রুমের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখতে পান ফ্যানের সঙ্গে বিছানার চাদর পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছে আরাফাত। সঙ্গে সঙ্গে তাকে সেখান থেকে নামিয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। সেখান থেকে পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়।
