রাতের আঁধারে মাটি বহন, দিনের বেলায় জনজীবনে দুর্যোগ

আপডেট : ১৪ মে ২০২৫, ০১:২৭ পিএম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাটিবোঝাই বেপরোয়া ড্রাম ট্রাকের কারণে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একটি ব্রিজ ও দুটি কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। এতে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রাণঘাতী ফাঁদ। দীর্ঘদিন ধরেই উপজেলার নালঘর-চৌমুহনী ও সৈয়দপুর-নারায়ণপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

ফলে প্রতিদিন স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, সাধারণ পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নালঘর-চৌমুহনী বাজার সড়ক ও সৈয়দপুর-নারায়ণপুর সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসে হাজারো মানুষ চলাচল করেন। এই দুই সড়কের পাশে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও প্রতিনিয়ত এই পথ ব্যবহার করেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ব্রিজ ও কালভার্টের ভাঙা অংশে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

দীর্ঘদিন ধরে বসুয়ারা ও কৈয়নী এলাকায় দুটি কালভার্ট এবং নারায়ণপুর ব্রিজ ভাঙা অবস্থায় থাকলেও মেরামতের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ভাঙা ব্রিজ ও কালভার্টে পড়ে নারী-পুরুষসহ অনেকেই আহত হয়েছেন। বসুয়ারা গ্রামের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “মাটি খেকোরা রাতের আঁধারে ড্রাম ট্রাকে করে অবৈধভাবে মাটি বহন করে। এসব মাটিভর্তি ভারী ট্রাকের চাপে গ্রামীণ সড়কের কালভার্টগুলোর একাংশ ভেঙে যায়। এতে রাতের বেলা অচেনা মানুষের চলাচলে ভয়াবহ সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাই।”

ভুক্তভোগী শাহাদাত হোসেন ও আকতারুন নাহার জানান, “সন্ধ্যায় আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় ফেরার পথে ভাঙা কালভার্টে পড়ে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছি। দ্রুত সংস্কার জরুরি।”

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান বলেন, “বন্যার পর অনেক কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষের চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই ভাঙা ব্রিজ ও কালভার্টগুলো সংস্কার করে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা যাবে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত