‘বাপুরে কিসসান (কৃষান) আনতে গেলি ম্যালা টেহা দরকার। আমগোর তো কোনও টেহা নাই। কি আর করুম আমি ও মাইয়াই মিললা নিজেগোর খেতে ধান কাটবার আইছি’- এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ফরিদপুর পৌর এলাকার বিলমাহমুদপুর বাওরচর এলাকার পচাত্তর বছর বয়সী বিধবা নারী নুরজাহান বেগম।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নুরজাহান বেগমের সঙ্গে যখন কথা হয় তখন তার মেয়ে বেদেনা বেগম (৫৫) তখনও ধান কাটছিলেন।
নুরজাহান বেগম জানান, তার স্বামী এলাহি মল্লিক ৩৭ বছর আগে মারা গেছে। স্বামী মারা যাবার পর ৪ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। বর্তমানে ৩ ছেলে বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছেন। ছোট ছেলে ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে রয়েছেন। মেয়ে বেদেনা বেগম স্বামী পরিত্যক্তা।
নুরজাহান জানান, তার স্বামী কোনও জমি জমা রেখে যায়নি। জীবন বাঁচাতে ১৮ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। এবার সেই জমিতে লাগিয়ে ধান। আর ধান পেকে যাওয়ায় কিষান নিতে না পারায় নুরজাহান বেগম ও তার মেয়ে বেদেনা বেগম খেতের ধান কাটতে নামেন।
তিনি বলেন, কিসসানের ম্যালা দাম, আমগোর তো অত টেহা নাই, কিসসান নিমু ক্যামনে, তারপর কিসসান গো আবার খাইতে দিতে অয়। নিজেরাই ঠিকমতো খাইবার পারি না’। ‘ছাওয়ালডা কামে গ্যাছে, কাম না করলে খাইবো কি। তাই মা ঝিয়ে মিললা ধান কাটছি। সারাদিন মা মেয়ে মিলে ১৮ শতাংশ খেতের সব ধানই কেটেছেন।
মেয়ে বেদেনা বেগম বলেন, আমার স্বামী নেই। থাকি মায়ের কাছে। কষ্টের সংসারে মায়ের সাথে আমিও ধান কাটতে আইছি। আমাদের মতো গরিবের খবর কেউ রাখে না। ধার-দেনা করে বোরো মৌসুমে যেটুকু বর্গা জমি নিয়ে ছিলাম সবটুকু জমিতেই ধান লাগানো হয়েছে। কিন্তু ধান কাটার শ্রমিকের মুজরী/টাকা না থাকায় মায়ের সাথেই ধান কাটছি।
অসহায় হতদরিদ্র বয়োঃবৃদ্ধ নুরজাহান বেগম বলেন, ম্যালাদিন হইছে স্বামীডা মারা গ্যাছে। ছাওয়াল-মাইয়্যা নিয়া খুব কষ্ট করছি। কোনওদিন সাহায্য পাই নাই। মেম্বার কইছিল একটা ভাতা কার্ড কইর্যা দিবো, কিন্তু কোনওদিন হেই কার্ড পাই নাই।
