কাশিমপুর থেকে মুক্তি পেলেন ২৭ বিডিআর সদস্য

আপডেট : ১৬ মে ২০২৫, ০৬:৪১ এএম

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ২৭ জন বিডিআর জওয়ান। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় জামিনে কারামুক্ত হন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে তারা মুক্তিলাভ করেন। এ সময় কারা ফটকে বিডিআর সদস্যদের আত্মীয়-স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সোমবার ৪০ আসামির জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেয় আদালত।

মুক্তি পাওয়াদের মধ্যে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১২ জন, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ থেকে ৫ জন এবং কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ থেকে ১০ জন কারামুক্ত হন।

কারা সূত্রে জানা গেছে, আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের (প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ) বিচারক ইব্রাহীম মিয়া বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় ৪০ জনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় জামিন পাওয়া ৪০ জনের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ থেকে ৫ জন, পার্ট -২ থেকে ১০ জন ও হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১১ জন মুক্তিলাভ করেন। এ ছাড়া বুধবার এই ইউনিট থেকে আরও এক বিডিআর সদস্য জামিনে মুক্তি পান। এর আগে হত্যা মামলায় খালাস পাওয়া ১৭৮ জন বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় জামিন পেয়েছিলেন। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট ২১৮ জন জামিন পেলেন। জামিনে মুক্তিলাভ করায় সাবেক বিডিআর সদস্য এবং তাদের স্বজনরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ আল মামুন বলেন, বুধবার বিকেলে বন্দি ২৭ সাবেক বিডিআর সদস্যের জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছায়। পরে কাগজপত্র যাচাইবাছাই করে সকালে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

এদিকে সাবেক বিডিআর সদস্যরা জামিনে কারামুক্ত হবেন এমন খবরে তাদের পরিবারের স্বজনরা সকাল থেকেই কাশিমপুর কারা ফটকে এসে জড়ো হতে থাকেন। সকাল ১০টার দিকে জামিনপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্যরা একে একে কারা ফটক দিয়ে বের হতে থাকেন। এ সময় কারামুক্ত বিডিআর সদস্যরা তাদের স্বজনদের জড়িয়ে ধরেন। এতে উভয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি) সদর দপ্তর ঢাকার পিলখানায় বিদ্রোহ হয়। সেদিন বিডিআরের কয়েকশ সদস্য পিলখানায় নৃশংস হত্যাকা- চালান। প্রায় দুই দিনব্যাপী চলা বিদ্রোহে বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। সব মিলিয়ে ৭৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পিলখানায় বিডিআরের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও সেদিন নৃশংসতার শিকার হন। সেই বিদ্রোহের পর সীমান্ত রক্ষাবাহিনী বিডিআরের নাম বদলে যায়। পরিবর্তন আসে পোশাকেও। এ বাহিনীর নাম এখন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি।

পিলখানায় হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে পৃথক মামলা হয়। হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামি করা হয় ৮৫০ জনকে। দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটিই সবচেয়ে বড় মামলা।

বিচারিক আদালত ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এ মামলার রায় দেয়। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদ-, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেওয়া হয়। রায়ে খালাস পান ২৭৮ জন। রায় ঘোষণার আগে চার আসামি মারা যান।

এদিকে পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকা-ের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। এর মধ্যে হত্যাকা-ের ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট এরই মধ্যে রায় দিয়েছে। মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য এখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে করা মামলায় বিচারিক আদালতে এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এ মামলার সাক্ষী ১ হাজার ৩৪৪ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত