এক হাজার বন্দি বিনিময়ে রাজি রাশিয়া-ইউক্রেন

আপডেট : ১৮ মে ২০২৫, ০৭:২২ এএম

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেসামরিকদের বহনকারী একটি গাড়িতে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে। শনিবার রাশিয়ার সীমান্তের কাছে সুমি অঞ্চলের বিলোপিলিয়া শহরে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। সুমির স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। সুমির আঞ্চলিক প্রধান ওলেহ হ্রিহোরোভ জানিয়েছেন, বেসামরিকদের ওই মিনিবাসটিতে রাশিয়ার ল্যানসেট ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে বলে জানান তিনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, এই হামলা ইচ্ছাকৃত বেসামরিক হত্যা। কী ধরনের গাড়িতে হামলা চালিয়েছে তা রুশ বাহিনী বুঝতে পারছে না?

বেসামরিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘নিন্দনীয় যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ইউক্রেনের পুলিশ। বেসামরিকদের গাড়িতে হামলার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে সুমিতে একটি সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণের কথা জানানো হয়েছে। ২০২২ সালে সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে প্রথম সরাসরি শান্তি আলোচনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই এই হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে গত শুক্রবার তুরস্কে অনুষ্ঠিত ওই শান্তি আলোচনায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যায়নি।

এদিকে, তিন বছরের বেশি সময় পর ইস্তাম্বুলে সরাসরি বৈঠকের পর এক হাজার যুদ্ধবন্দিকে একে অন্যের কাছে হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিরতির রূপরেখা নিয়ে লিখিত প্রস্তাব আদান-প্রদানের পর আলোচনা ফের শুরু করার ব্যাপারেও সম্মত হয়েছে তারা। রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের প্রধান ভল্লাদিমির মেদিনস্কি শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ১ হাজারের বিপরীতে ১ হাজার বন্দি বিনিময় হবে। ইউক্রেনে রাশিয়া বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর পর এটি হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় বন্দি বিনিময়ের একটি। মেদিনস্কি বলেন, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব এসেছে। তিনি জানান, রাশিয়া সেই প্রস্তাব নোট করে রেখেছে।

তবে রুশ প্রতিনিধিরা আলোচনাকে ইতিবাচক বললেও ইউক্রেনীয় এক কর্মকর্তা বলেছেন, রাশিয়ার দাবি অগ্রহণযোগ্য এবং অবাস্তব। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি ও পোল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, রাশিয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত