রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম নিয়ে আপিল বিভাগে ফের শুনানি

আপডেট : ১৮ মে ২০২৫, ১২:৪৮ পিএম

দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) সংক্রান্ত মামলার শুনানি আবার শুরু হয়েছে। রবিবার (১৮ মে) সকালে আপিল বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এম ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন প্রধান বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম দায়িত্বে না থাকায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে বিচারপতি ইমান আলী বেঞ্চে নেতৃত্ব দেন। প্রায় তিন সপ্তাহ পর মামলাটির শুনানি কার্যক্রমে নতুন করে গতি ফিরে আসে।

আজকের শুনানিতে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। এর আগে সর্বশেষ শুনানি হয়েছিল ২৭ এপ্রিল, যা পরবর্তীতে মুলতবি ছিল।

রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার তালিকায় প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের, বিশেষত সচিবদের, বিচার বিভাগের জেলা জজদের চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি শুরু থেকেই বিতর্কের জন্ম দেয়। বিষয়টি বিচার বিভাগের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে।

১৯৮৬ সালে ‘রুলস অব বিজনেস’ অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের তালিকা তৈরি করে, যা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এরপর একাধিকবার এ তালিকা সংশোধন করা হলেও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের অবস্থান নিয়ে মতানৈক্য থেকে যায়।

এই পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন মহাসচিব মো. আতাউর রহমান ২০০৬ সালে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। এতে তিনি রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন।

২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট আট দফা নির্দেশনা দিয়ে ১৯৮৬ সালের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স (সংশোধিত) অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে দেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ২০১১ সালে আপিল করে।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে, ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায় দেয়। সে রায়ে হাইকোর্টের নির্দেশনার কিছু সংশোধন করে তিনটি মৌলিক দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়:

১. সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন; তাই পদমর্যাদায় সাংবিধানিক পদধারীদের অগ্রাধিকার থাকবে।
২. জেলা ও দায়রা জজ এবং সমমর্যাদার বিচারকগণ সচিবদের সঙ্গে একসঙ্গে ১৬ নম্বরে অবস্থান করবেন।
৩. অতিরিক্ত সচিবগণ থাকবেন জেলা জজদের পরপরই, অর্থাৎ ১৭ নম্বরে।

তবে চূড়ান্ত রায় ঘোষণার পরও গেজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মতভিন্নতা অব্যাহত থাকে। ফলে মামলাটি আবারো আলোচনায় উঠে আসে এবং আজকের শুনানিতে আদালতের দৃষ্টি মূলত সরকারের ব্যাখ্যার দিকে, যেখানে সচিবদের উচ্চতর স্থানে রাখার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে।

আদালত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সমাধানে পৌঁছাতে হলে সংবিধান, বিচার বিভাগের মর্যাদা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর ভারসাম্য বিবেচনায় এনে রায় দিতে হবে। মামলাটির ফলাফল প্রশাসন ও বিচার বিভাগের মধ্যে পদমর্যাদা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত