রাজউক ঘেরাও কর্মসূচি

সাত দিনের মধ্যে ইমারত বিধি পুনর্বহালের দাবি

আপডেট : ২১ মে ২০২৫, ০৭:১৯ এএম

বৈষম্যমূলক ড্যাপ বাতিল ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮ পুনর্বহাল দাবিতে রাজউক ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন ঢাকার জমি মালিকরা। ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন গতকাল মঙ্গলবার রাজউকের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করে কর্মসূচি পালন করে। এ সময় ভূমি মালিক, প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এ সময় বক্তারা পরিকল্পনাবিদরা কিছু ভূমি ব্যবসায়ীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ড্যাপের সংশোধনীতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮ পুনর্বহাল না করলে রাজউকের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেন তারা।

এ সময় পাশের বাড়ি দশতলা আমার কেন পাঁচতলাসহ নানা স্লোগান দেন ভূমি মালিকরা। কর্মসূচি থেকে ১১ দফা দাবি জানানো হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ড্যাপ (২০২২-৩৫) বাতিল, ২০০৮-এর নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণের সুযোগদান, আগের নিয়ম অনুয়ায়ী বাড়ির উচ্চতা ও ঢাকা শহরের রাস্তার প্রশস্ততা সর্বনিম্ন ২০ ফুট করা উল্লেখযোগ্য।

ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. দেওয়ান এমএ সাজ্জাদ বলেন, ‘আমরা কয়েক হাজার ভূমি মালিক শান্তিপূর্ণভাবে রাজউক ঘেরাও করেছি। তাদের শুধু সতর্ক করার জন্য ঘেরাও করেছি। আমাদের দাবি না মানলে আগামীতে কঠোর আন্দোলন হবে।’

ভূমি মালিক তানভীরুল ইসলাম বলেন, ‘জনস্বার্থবিরোধী বৈষম্যমূলক ড্যাপ বাতিল না হলে আমরা রাজউকের সামনে আমরণ অনশন শরু করব।’ তিনি বলেন, ‘যে ড্যাপ কৃষিজমি ধ্বংস করে, জলাধার ধ্বংস করে পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে আনে, সেই ড্যাপ বাতিল চাই। আমাদের দাবি আদায় না হলে রাজপথ ছেড়ে যাব না।’

ভূমি মালিক আমিনুর রহমান বলেন, ‘পতিত সরকারের কিছু দোসরের প্রেসক্রিপশনে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে তড়িঘড়ি করে দেশের স্বার্থবিরোধী বেআইনি ড্যাপ ২০২২-৩৫ প্রকাশ করা হয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেড়ে নেওয়া হয় ঢাকা মহানগরের ভবন নির্মাণের অধিকার। নগরবাসীর মধ্যে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সৃষ্টি করা হয় চরম বৈষম্য। যার ফলে কৃষিজমি ও বন্যাপ্রবাহ এলাকা দ্রুত গতিতে হ্রাস পাচ্ছে।’

ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সমন্বয়ক লিজা বলেন, ‘আমরা বহুবার বিভিন্ন দপ্তরে গিয়েছি, আবেদন-নিবেদন করেছি। কিন্তু আমাদের কান্না কেউ শুনছে না। জমির মালিক হওয়া সত্ত্বেও আমরা আজ মৌলিক অধিকারের অন্যতম আবাসন তৈরির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন। আমাদের যেহেতু জমির স্বল্পতা আছে, সেই বিবেচনায় ঢাকা মহানগরের ড্যাপ ২০২২-৩৫-এর বিতর্কিত বিধিবিধানগুলো স্থগিত করে ঢাকা মহানগরের মহল্লাগুলোর রাস্তা প্রশস্তকরণ ও জনস্বার্থে মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮-এর বিধিবিধান অনুসারে ভবন নির্মাণের অনুমতি দিতে হবে।’

সমন্বয়ক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘পরিতাপের সঙ্গে সমবেত হয়েছি। দেশের আইন হয় জনস্বার্থে, জনস্বার্থ পরিপন্থী হলে হয় না। প্ল্যান অনুমোদন নিতে হয়, নকশা নিতে একেক সময় একেক আইন করা হয়। প্রকৃত অবস্থা দেখে আইন করে না। অন্যদের কথায় করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গুলশান, বারিধারায় এক আইন আর অন্য এলাকায় আরেক আইন এটা হয় না। ২০০৮ সালের যে আইন কার্যকর ছিল, সেটাই যথাযথ ছিল। বিনা টাকায় নকশা হয় না, নকশার জন্য আবেদন করা হলে এক মাসের মধ্যে পাস করা সম্ভব। কিন্তু টাকা না হলে মাসের পর মাস ফেলে রাখা হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত