মুন্সীগঞ্জে এলিভেটেড রেললাইন ঝুঁকিতে ফেলে নিচের মাটি লুট

আপডেট : ২২ মে ২০২৫, ০২:২৭ এএম

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে রাতের আঁধারে পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্পের এলিভেটেড রেললাইনের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। রেললাইনের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মাটি কেটে নিতে সক্রিয় রয়েছে প্রভাবশালী চক্র। এতে এলিভেটেড রেললাইনের পিলারের নিচে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে এলিভেটেড রেললাইনের পিলার ও অবকাঠামো।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে সিরাজদিখান উপজেলার এ এলিভেটেড রেললাইন গিয়ে মিলেছে পদ্মা সেতু রেললাইনে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সিরাজদিখানের বাসাইল ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রাম থেকে বালুচর ইউনিয়নের বেগমবাজার পাইন্যাচর পর্যন্ত রেললাইনের নিচ থেকে প্রতি রাতেই মাটি কেটে নিচ্ছে চক্রটি। রাতে মাটি কেটে তোলা হয় মাহিন্দ্র কিংবা ডাম্প ট্রাকে। এরপর সেই মাটি বিক্রির জন্য নিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা।

এলাকাবাসী জানান, রাতের আঁধারে গোটা দশেক এক্সকাভেটর ও ভেকু দিয়ে মাটি কাটে প্রভাবশালী চক্রের নিয়োজিত শ্রমিকরা। এরপর অর্ধশত ডাম্প ট্রাক ও মাহিন্দ্রতে করে সেই মাটি নিয়ে যাওয়া হয়।

গত রবিবার সকালে সরেজমিনে বাসাইল ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামে গিয়ে কয়েকটি এক্সকাভেটর ও ভেকু দেখা গেছে। ওই সময় বেশ কয়েকটি মাহিন্দ্র ও ডাম্প ট্রাকে মাটি তুলতে দেখা যায়। মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার কারণে রেললাইনের নিচের পিলার ঘেঁষে বড় বড় গর্ত দেখা গেছে।

এদিকে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের নাম ভয়ে প্রকাশ করতে চাননি স্থানীয়রা। চক্রটির বিরুদ্ধে কথা বললে অহেতুক মামলার আসামি হওয়া বা প্রাণ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান স্থানীয় কয়েকজন।

পলাশপুর গ্রামের বাসিন্দা আউয়াল মাদবর বলেন, ‘প্রতি রাতেই এক্সকাভেটর ও ভেকু দিয়ে মাটি কেটে মাহিন্দ্র ও ডাম্প ট্রাকে করে নিয়ে যায় স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের লোকজন। আর ওই মাটি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে তারা। মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের নাম বলতে ভয় আছে। তবে আমরা মৌখিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে বরাবরই এ বিষয়ে বলে আসছি।’

ওই গ্রামের আরেক বাসিন্দা মো. রাসেল হাসান বলেন, ‘এই রেললাইন নির্মাণের আগে এখানে একটি সরকারি রাস্তা ছিল। রেললাইন নির্মাণকালে ওই রাস্তায় মাটি ফেলে শ্রমিকদের যান চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়। এতে এলাকাবাসীও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারতেন। কিন্তু এখন রাতের আঁধারে কিছু প্রভাবশালী সেই মাটি কেটে বিক্রি করছেন। আমি এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে দুটি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে। এমনকি আমার ওপর হামলাও হয়েছে। আমি এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করেছি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও অবহিত করেছি।’

এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনা আক্তার বলেন, ‘মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়ার পর সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে অভিযানের সময় অভিযুক্তরা আগে থেকেই বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এতে সে সময় কাউকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়নি। এরপরও যেহেতু মাটি কাটার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত