হান্নান মাসউদকে কারণ দর্শানোর নোটিস এনসিপির

আপডেট : ২২ মে ২০২৫, ০৭:৩১ এএম

জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে দলটি। গত মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে মব সৃষ্টি করে এক প্রকাশককে স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে তার বাসার সামনে বিশৃঙ্খলা করায় গ্রেপ্তার হওয়া তিন সমন্বয়ককে ধানমন্ডি থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানো নোটিস দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সেই নোটিসটি পোস্ট করা হয়। দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এই নোটিসে হান্নান মাসউদকে আগামী তিন দিনের মধ্যে শৃঙ্খলা কমিটির কাছে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নোটিসে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার ধানমন্ডি থানার আওতাভুক্ত একটি আবাসিক এলাকায় ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে বিশৃঙ্খলা করার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে আটক করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক ওই তিনজনের অন্যতম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, মোহাম্মদপুর থানার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বিকে নৈতিকতা স্খলনজনিত কারণে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। তা সত্ত্বেও, আপনি সংশ্লিষ্ট থানায় উপস্থিত হয়ে আটক তিনজনের মুচলেকা প্রদান করে থানা থেকে তাদের জামিন করিয়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, ওই ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে আপনার ব্যাখ্যা এবং আপনার বিরুদ্ধে  কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার লিখিত বিবরণ আগামী তিন দিনের মধ্য শৃঙ্খলা কমিটির প্রধানের কাছে উপস্থাপন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলো।

আটকের পর ছেড়ে দেওয়া সমন্বয়করা হলেন, মোহাম্মদপুর থানার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বী, তাকে নৈতিক স্খলনজনিত কারণ  দেখিয়ে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাকি দুজন হলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আফারহান সরকার দিনার ও মো. উল্লাহ জিসান। তবে জিসানের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটিতে  কোনো পদ নেই। আটকের পর ধানমন্ডি থানায় ছিলেন এই তিন সমন্বয়ক।

গত মঙ্গলবার দুপুরের পর ধানমন্ডি থানায় যান জাতীয় নাগরিক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। প্রায় এক ঘণ্টা থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর তার জিম্মায় এই তিনজনকে ছেড়ে দেয় ধানমন্ডি থানা পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে হান্নান মাসউদকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, এমনি খোঁজ-খবর নিতে এসেছি। একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, সেটা মীমাংসা করা হলো। এ ঘটনায় বাইরের অনেকেই জড়িত আছে। সেগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি।

এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে এক স্ট্যাটাসে হান্নান মাসউদ এর কারণ ব্যাখ্যা করেন। স্ট্যাটাসে হান্নান মাসউদ লেখেন, ‘মোহাম্মদপুর থানা বৈবিছাআ’র আহ্বায়কসহ তিনজনকে আটক করা হয় মব সৃষ্টির  চেষ্টাকালে, যার ফলে বৈবিছাআ’র পরিচয়ে স্টুডেন্টরা ধানমন্ডি থানায় গিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করছিল। এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারের অনুরোধে আমি সেখানে যাই। সেখানে  গেলে প্রশাসনের অনুরোধে বিষয়টির মধ্যস্থতা করি। যেহেতু প্রশাসন ওদের বিরুদ্ধে  কোনো অভিযোগ রুজু করেনি এবং করতেও চাচ্ছিল না।’

প্রশাসনকে সহযোগিতা করছেন জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী একটা মঞ্চের ব্যানারে নিয়মিত মব সৃষ্টি করা ব্যক্তিদের মধ্যেও একজন সেখানে ছিল, যেটা পরে আমি জানতে পারি। এই বিষয়ে প্রশাসনকে পরিপূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে, ইনশাআল্লাহ এই মব সৃষ্টির মূল হোতারা দ্রুত অ্যারেস্ট হবে।’ ডিএমপিকে তাদের ব্যাপারে ইনফর্ম করা হয়েছে বলেও লেখেন হান্নান মাসউদ।

এর আগে সোমবার রাতে ধানমন্ডিতে মব সৃষ্টি করে একজন পাবলিশার্সকে স্বৈরাচারের  দোসর আখ্যা দিয়ে তার বাসার সামনে পুলিশের সঙ্গে ঝামেলা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক। পরে সেখান থেকে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে ধানম-ি থানা পুলিশ। মঙ্গলবার জাতীয় নাগরিক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ধানমন্ডি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈনু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত