হাট কাঁপাতে প্রস্তুত ৮০০ কেজির ‘সম্রাট’

আপডেট : ২৪ মে ২০২৫, ০৩:০৪ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ৪ বছর ধরে সম্রাটকে লালন-পালন করছেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক মো. নূরুল ইসলাম মাস্টার। ব্রাহমা জাতের সম্রাটের ওজন ৮০০ কেজি। নিজের সন্তানের মতো চার বছর ধরে লালন-পালন করা সম্রাটকে এবার ঈদুল আজহার হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্রাটের উচ্চতা ৫ ফুট, দৈর্ঘ্য ৯ ফুট। আজ শনিবার (২৪ মে) উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের উত্তর মমরেজপুর গ্রামে গিয়ে সন্ধান মেলে ৮০০ কেজির সম্রাটের।

সম্রাটকে লালন-পালনকারী নূরুল ইসলাম মাস্টার বলেন, ‘কোনো ধরনের মোটাতাজাকরণের ওষুধ ছাড়াই শুধু প্রাকৃতিক ঘাস, ভুষি, ভুট্টা, খড়, পাকা কলা আর লতাপাতা খেয়েই বেড়ে উঠেছে আমাদের আদরের সম্রাট।’

তিনি আরও বলেন, আমার একটি গাভী ৪ বছর আগে সম্রাটকে প্রসব করে। তখন থেকেই নিজের সন্তানের মতোই বাছুরটিকে লালন-পালন করে আসছি। আদর করে ডাকি সম্রাট।

নূরুল ইসলাম বলেন, এক বছর পর আজ গোয়ালঘর থেকে সম্রাটকে বের করেছি। শখের কারণে বড় করেছি গরুটি। গত বছর কুরবানির হাটে নিয়েছিলাম সম্রাটকে, তখন সাড়ে ৩ লাখ টাকা দাম হয়েছিল। কিন্তু খরচের সঙ্গে দামের মিল না পাওয়ায় গত বছর বিক্রি করিনি। তাই এবার বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গরুটি বিক্রির জন্য দাম চাচ্ছি ৮ লাখ টাকা।

সম্রাটকে প্রতিদিন খেতে দেওয়া হয় প্রায় এক মণ প্রাকৃতিক খাবার। যার মধ্যে রয়েছে অন্তত ২০ কেজি ঘাস ও ভুসি ইত্যাদি। এছাড়া কলা, খড়,ভাত ও অন্যান্য খাবারও খাওয়ানো হয়। গোসল করানো হয় শ্যাম্পু দিয়ে, আর গরমে আরাম দিতে রয়েছে বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থা। এখন প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১০০০ টাকার মতো খাবার লাগে সম্রাটের।

স্থানীয় বাচ্চু মিয়া বলেন, গরুটি এতটাই বড় যে একা সামলানো সম্ভব হয় না। যখন গোয়াল থেকে বের করে তখন আমরা এলাকাবাসী ৮-১০ জন মিলে বের করি।

ঈদে গরুটি বিক্রির ঘোষণা দেওয়ায় আশেপাশের এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। ৮ লাখ টাকা দাম হাঁকানো বিশাল আকৃতির এ গরুটিকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই নূরুল ইসলামের বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। কেউ কেউ দেখে বিস্মিত হয়ে পড়েন। গরু দেখতে আসা আরিফুল হক নামে একজন বলেন, ‘গরু এত বড় হতে পারে, তা কোনোদিন দেখিনি।’

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, সম্রাট ব্রাহমা জাতের গরু। এ জাতের গরু আকারে অনেক বড় হয়। সাধারণত খরচের কথা বিবেচনা করে সচরাচর কেউ গরু এত বড় করে না। এক্ষেত্রে নূরুল ইসলাম গরুটিকে বড় করে সফল হয়েছেন। ভেজালের ভিড়ে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা সম্রাট বিরল একটি দৃষ্টান্ত। কোরবানির হাটে বিক্রি হলে এটি বাজারে সাড়া ফেলবে বলে আশা করি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত