জনসংযোগ সমিতির সেমিনারে চট্টগ্রামের মেয়র

এবারের বর্ষায় জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ অর্ধেকে নেমে আসবে

আপডেট : ২৪ মে ২০২৫, ০৯:০৮ পিএম

চলতি বছর চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ অর্ধেকে নেমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ড. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, এ বছর যেভাবে কাজ হয়েছে তাতে এবার জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে আসবে।

শনিবার (২৪ মে) দুপুরে বাংলাদেশ জনসংযোগ সমিতি আয়োজিত ‘চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জনসংযোগ সমিতি চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি অভীক ওসমান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দেশ রূপান্তর চট্টগ্রাম অফিসের ব্যুরো প্রধান ভূঁইয়া নজরুল। 

প্রবন্ধকার ভূঁইয়া নজরুল বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক সমাজের যেমন ভূমিকা রয়েছে, তেমনিভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। সরকারের পক্ষ ২০১৭ সালে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হলেও এখনো জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে আমরা রেহাই পাইনি কেন? একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হলেও এই দুর্ভোগের পরিত্রাণ নেই। 

ভূঁইয়া নজরুল আরও বলেন, এই নগরে এক সময় মহেশখালের মুখে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু দুই বছরের মাথায় তা ভেঙে ফেলতে হয়েছিল। এখন এই নগরীর ৪০ খালের মুখে রেগুলেটর বসানো হচ্ছে। কোনো রকমের ফিজিবিলিটি স্টাডি ছাড়া বসানো এসব রেগুলেটরের কারণে শহরের অংশে যে পলি জমা হবে এতে পুরো নগরী আবারো জলমগ্ন নগরীতে পরিণত হয় কিনা শঙ্কা করছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই নগরেরত জলবদ্ধতা নিরসনের জন্য যন্ত্রপাতি কিনতে সরকারের কাছে ৩৯০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো সেই প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। যন্ত্রপাতি ছাড়া আমি নালা খাল পরিস্কার করবো কি করে? 

তিনি আরও বলেন, আমরা সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর সব সংস্থাগুলো নিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এর ফলাফলও আমরা পাবো। এবার হয়তো গত বছরের তুলনায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ দুর্ভোগ কমে আসবে। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহম্মদ আনোয়ার পাশা বলেন, প্রকৃতিকে প্রকৃতির মতোই নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া উচিত। যখনই এখানে বাধাঁ দেওয়া হবে তখন তা হিতে বিপরীত হবে। এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫৫ শতাংশ দায়িত্ব নাগরিকের এবং ৪৫ শতাংশ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার।

স্থপতি জেরিনা হোসেন বলেন, এই নগরে প্রত্যেকটি প্লটের পানি ধারণ ক্ষমতা থাকতে হবে। এজন্য প্রতিটি প্লটের মধ্যে কার্পেটিং ছাড়া খালি জায়গা রাখা প্রয়োজন। যাতে বৃষ্টির পানি মাটির ভেতরে রিচার্জ হয়। এতে ভূ-গর্ভস্থ পানি যেমন পুনঃভরন হবে তেমনিভাবে পানিও রাস্তা ও নালা দিয়ে কম প্রবাহিত হবে। 

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বর্ক্তৃতা করেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়েরর উপাচার্য প্রফেসর এস এম নসরুল কদির, আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম, সিডিএ বোর্ড মেম্বার স্থপতি ফারুক আহমেদ, স্থপতি আশিক ইমরান,  জনসংযোগ সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি এ. এস. এম. বজলুল হক, পেশাজীবী নেতা ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, ডা. একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্যসচিব ও সিডিএ বোর্ড মেম্বার জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বাসস এর ব্যুরো চিফ মোহাম্মদ শাহনওয়াজ, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. শহীদুল হক এবং অধ্যক্ষ সুরাইয়া বেগম। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ সাকী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত