দেশের শেয়ারবাজারকে ক্যাসিনোর ব্যবসার সঙ্গে তুলনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল শনিবার ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় পুঁজিবাজার : দর্শন ও অনুশীলন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য বলেন।
ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, শাস্তি যদি না হয়, অন্যায় ও দুর্নীতি রোধ করা যায় না। আমরা দেখেছি ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় শেয়ারবাজারে অনিয়ম হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে পথে বসিয়ে দেওয়া হলেও তার কোনো বিচার হয়নি। ফলে ২০১০ সালে আবারও একই ধরনের চিত্র দেখেছি। রাজনৈতিকভাবে সিন্ডিকেট করে পুঁজিবাজার থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই ঘটনায়ও কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন বিএসইসি কমিশনার মো. মোহসিন চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ, আইসিএমএবির সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
আমীর খসরু বলেন, আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে পুঁজিবাজার অনেকটা আলাদা। মুদ্রানীতিসহ অর্থনীতির অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে এটি সম্পর্ক রাখে না।
বাংলাদেশের পুঁজিবাজার (শেয়ারবাজার) একটা ক্যাসিনো। এখানে যারা ব্যবসা করছেন, তাদের লাভের খবর থাকে না। কিন্তু দিন শেষে ক্যাসিনো মালিকের লাভ ঠিক থাকছে। এটি গত ১৫ বছরে হয়েছে। তারা বাংলাদেশ ব্যাংক বিএসইসিকে রাজনীতিকরণ করেছে। বিএনপির আমলে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি রাজনীতিকরণ হয়নি। আগামীতেও হবে না।
উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ একমাত্র মূলমন্ত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনি উন্নয়ের জন্য এক থেকে তিন পর্যন্ত বলেন, এর প্রতিবারই বলতে হবে বিনিয়োগ। বিনিয়োগের বিকল্প কোনো কিছু হতে পারে না। কিন্তু বিনিয়োগের উৎস হলো পুঁজিবাজার। সেখান থেকে পুঁজি সংগ্রহ করা যাচ্ছেনা। সেখান থেকে যত কম খরচে সরকারি ও বেসরকারি খাতে পুঁজির সংস্থান করা যাবে, তত বেশি উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।
আওয়ামী সরকার দেশের পুঁজিবাজার ধ্বংস করে দিয়েছে দাবি করে বিএনপির এ নেতা বলেন, শেয়ারবাজার থেকে লুটপাট করতে করতে, এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে সেটিকে সাধারণভাবে চলতে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেজন্য তারা ফ্লোর প্রাইস চাপিয়ে দিয়েছে। অনেক কোম্পানি তালিকাভুক্ত করেছে, যেগুলো এখন আর চলতে পারছেনা। সেজন্য আমি মনে করি, যেসব কোম্পানি চলতে পারছে না, তাদের জন্য মূল বাজারের বাইরে বিকল্প বাজার ব্যবস্থা থাকা দরকার। সেখান থেকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে সতেজ করে তুলতে পারে। তবে এর আগে দেখেছি, বিএসইসি নিজ পছন্দের লোকদের কমিশনে ডেকে রুগ্ন কোম্পানিকে মার্জ (একীভূত) হয়েছে। আশা করছি ভবিষ্যতে পুঁজিবাজার এসব প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে।
বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় পুঁজিবাজারের দায়িত্ব নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির নার্ভ (স্নায়ুতন্ত্র) হচ্ছে পুঁজিবাজার। দেশের পুঁজিবাজারে যেসব সংস্কার হয়েছে, সেগুলো বিএনপির আমলেই হয়েছে। অর্থনৈতিক খাতে আমাদের অনেক অভিজ্ঞ লোকজন রয়েছেন, বিশ্বের অনেক দেশে তারা পুঁজি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের প্রয়োজনে আমরা তাদের নিয়ে আসব।
