আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের সহজ ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আগামী ৩ জুন থেকে বিআরটিসির ঈদ স্পেশাল সার্ভিস শুরু হবে। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ডিপোতে গত শনিবার থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত ঈদ সার্ভিসের বাস চলাচল করবে। এতে আরও বলা হয়, এ সার্ভিসের আওতায় ঢাকার মতিঝিল, জোয়ারা সাহারা, কল্যাণপুর, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী বাস ডিপো থেকে বিভিন্ন রুটের টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ (চাষাঢ়া), গাজীপুর, নরসিংদী, কুমিল্লা, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, সোনাপুর, পাবনা, টুঙ্গিপাড়ার বাস ডিপো থেকেও বিভিন্ন রুটের টিকিট কেনা যাবে।
বাস রিজার্ভের জন্য বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ের টেলিফোন: ০২৪১০৫৩০৪২ অথবা মোবাইল : ০১৩২৪২৯৩৯৭৪ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
দূরপাল্লার বাসে বসছে সিসি ক্যামেরা : ঈদযাত্রায় দূরপাল্লার বাসে ডাকাতি-ছিনতাইসহ মহিলা যাত্রী হেনস্তা বন্ধে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। এ বিষয়ে গত শনিবার জরুরি নির্দেশনা দিয়ে বাস মালিক এবং সমিতিসহ জেলা শাখার অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিদের চিঠি পাঠায় মালিক সমিতি। এর আগে এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মালিক সমিতিকে গত ৮ এপ্রিল চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ।
শনিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বেশ কিছুদিন যাবৎ দূরপাল্লা রুটের বাসে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাত্রীগণ প্রায়ই ডাকাতি-ছিনতাইসহ মহিলা যাত্রীরা বিভিন্নভাবে লাঞ্ছনা/হেনস্তার শিকার হচ্ছেন এবং ওভারস্পিডে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। উল্লেখিত ঘটনা সঠিকভাবে নির্ণয় ও তদন্ত করা এবং বন্ধ করার জন্য প্রতিটি বাসে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি বাধ্যতামূলক করে আমাদেরকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে ।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায়, আপনাদের সমিতি/জেলা শাখার অন্তর্ভুক্ত দূরপাল্লা রুটে চলাচলকারী প্রতিটি কোম্পানি ও সমিতির বাসে অনতিবিলম্বে আগামী ১ জুনের মধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করার জন্য মালিকদের নির্দেশ প্রদান করতে বলা হলো। এ নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন না করলে স্ব-স্ব গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সিসি ক্যামেরা স্থাপন না করলে এবং গাড়ির স্পিড গভর্নর সিল করা না থাকলে প্রয়োজনে সে সব গাড়ি চলাচলে সিরিয়াল প্রদান বন্ধ রাখার জন্য বলা হলো ।
এর আগে গত ২০ মে অন্য এক চিঠিতে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি জানায়, সম্প্রতি দূরপাল্লা রুটে দুর্ঘটনার হার অনেকাংশে বেড়েছে। এমতাবস্থায়, দুর্ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে আপনাদের সমিতি/কোম্পানির স্ব-স্ব রুটের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপাররা যাতে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে ট্রাফিক নিয়ম-কানুন মেনে গাড়ি পরিচালনা করে, ওভারস্পিডে গাড়ি না চালায় এবং বেপরোয়াভাবে গাড়ি ওভারটেকিং না করে, এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে গাড়ির স্টাফদের সঙ্গে কাউন্সেলিং বা আলোচনা সভা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট কিনতে প্রায় ২ কোটি হিট : ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গতকাল রবিবার বিক্রি হয়েছে ৪ জুনের টিকিট। এদিন দুপুর ২টায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হয়। বিক্রি শুরুর প্রথম ৩০ মিনিটেই এক কোটি ৯৪ লাখ হিট বা টিকিট কেনার চেষ্টা করা হয়েছে।
এর আগে সকাল ৮টায় রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট বিক্রি শুরুর পর ওয়েবসাইটে সর্বোচ্চ দুই কোটি ৭৬ লাখ হিট করেন টিকিটপ্রত্যাশীরা।
বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্যানুযায়ী, আগামী ৪ জুন ঢাকা থেকে সারা দেশে যাতায়াতের জন্য ৩৪ হাজার ২০টি টিকিট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য ২৪টি ট্রেনে ১৬ হাজার ৫৭৬টি আসন এবং পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য ২১টি ট্রেনে ১৭ হাজার ৪৪৪টি টিকিট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৩১ হাজার ৫৪৭টি টিকিট।
ট্রেনে ঈদযাত্রা ঘিরে এবার সারা দেশে এক লাখ ৮৩ হাজার ৬৬৫টি টিকিট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যার মধ্যে গতকাল দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৬২ হাজার ২৫৮টি টিকিট।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫ জুনের টিকিট ২৬ মে ও ৬ জুনের টিকিট পাওয়া যাবে ২৭ মে।
ঈদপরবর্তী ফিরতি যাত্রায় ৯ জুনের অগ্রিম টিকিট ৩০ মে, ১০ জুনের টিকিট ৩১ মে, ১১ জুনের টিকিট ১ জুন, ১২ জুনের টিকিট ২ জুন, ১৩ জুনের টিকিট ৩ জুন, ১৪ জুনের টিকিট ৪ জুন এবং ১৫ জুনের টিকিট পাওয়া যাবে ৫ জুন।
যাত্রীদের টিকিট কেনার সুবিধার্থে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টা থেকে এবং পূর্বাঞ্চলে চলাচলরত ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে। ঈদযাত্রার শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে।
