ভারতের হরিয়ানা ও গুজরাটে বসবাসকারী ৫৪ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে সীমান্ত ফাঁকা করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। গতকাল রবিবার মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক ও কোয়ার্টার মাস্টার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সেদিন মহেশপুর খালিশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন কুসুমপুর ও বেনীপুর সীমান্ত দিয়ে দুই ধাপে এসব বাংলাদেশিকে পুশইন করে বিএসএফ। পরে সীমান্তের দুটি বিওপির পৃথক অভিযানে ১৯ নারী, ১১ পুরুষ ও ২৪ শিশুকে আটক করে বিজিবি।
আটকদের মধ্যে রয়েছেন লালমনিরহাট সদরের খোরারপুল গ্রামের শাহজাদার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩২), তার ভাই জিয়ারুল (২৩) ও রাসেল (২১); কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানার জয়মঙ্গল গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে ইউসুফ আলী (২৬), জাকারিয়া হোসাইন (২৮) এবং তেলীপাড়া গ্রামের মজিবর আলীর ছেলে আইয়ুব আলী (৫০)। আরও রয়েছেন খুলনার দাকোপ থানার কামারখোলা গ্রামের শামসুর শিকদারের ছেলে হাকিম সিকদার (৫২) ও তার ছেলে শাহাজান সিকদার (২১); এবং নড়াইলের কালিয়া থানার বিষ্ণুপুর গ্রামের আপন মল্লিক (৫১) ও মালেক হাওলাদারের ছেলে মনি হাওলাদার (২৮)।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের গুজরাট থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে সীমান্তে এসে পৌঁছায় ৪৫ জন। গত শনিবার (২৫ মে) বিএসএফ তাদের আটক করে। পরে সীমান্তের পিলার নম্বর ৬২/২-এস ও ৬২/৩-এস-এর মাঝামাঝি গেট খুলে তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। এরপর কুসুমপুর বিওপির হাবিলদার শিশির হালদারের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে।
একইভাবে, বেনীপুর বিওপির দায়িত্বাধীন সীমান্ত গেট দিয়ে ৯ জনকে পুশ-ইন করে বিএসএফ।
বিজিবি সূত্র জানায়, গত ২৪ মে ভারতের হরিয়ানা পুলিশ ওই ৯ জনকে আটক করে। পরে তাদের মহেশপুর ৫৮ বিজিবির আওতাধীন জীবননগর সীমান্তের ওপারে বিএসএফ ক্যাম্পে রেখে যায়। গতকাল রবিবার বিকেল ৪টার দিকে পিলার নম্বর ৬২/২-এস ও ৬২/৩-এস-এর মাঝখান দিয়ে গেট খুলে তাদের বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।
বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, বিএসএফ সীমান্তের গেট খুলে ৫৪ জন বাংলাদেশিকে দেশে পাঠিয়েছে। এদের সবাই হরিয়ানা ও গুজরাটে বসবাস করতেন। ভারতে আটকের পর বিএসএফ তাদের সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকিয়ে দেয়। আটক ব্যক্তিদের চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আটকদের বেশিরভাগই জীবননগর থানার আওতায় আটক হয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। মহেশপুর থানার অধীনে আটক ৮ জনের বিরুদ্ধেও মামলার প্রস্তুতি চলছে।
আদালতে পরীমণি
কাগজে কলমে নয়, উন্নয়নের হিসাব বাস্তবেও থাকতে হবে