ফরিদপুরে বিএনপির দুই গ্রুপে উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি

আপডেট : ২৭ মে ২০২৫, ১২:২৯ এএম

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পাল্টাপাল্টি সভাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে গতকাল সোমবার দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে অনাকাক্সিক্ষত কোনো ঘটনা ঘটেনি। সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় সদরের বাজার ও আশপাশের এলাকায় সোমবার সকাল থেকেই সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

স্থানীয়রা জানান, ফরিদপুর-১ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হতে প্রচার চালাচ্ছেন সাবেক এমপি, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ও বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্মসম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। এ দুই নেতার সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন। নাসির ও ঝুনু মিয়ার নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাদের নিজ নিজ দলে ভেড়ানোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন। ফলে দুগ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সোমবার আলফাডাঙ্গা চৌরাস্তা মোড়ে খন্দকার নাসিরকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধনের ডাক দেয় ঝুনু মিয়ার সমর্থকরা। এ খবর জানতে পেরে খন্দকার নাসিরের সমর্থকরাও পাল্টা সভার ঘোষণা দেয়। এতে করে দুগ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে ঝুনু মিয়ার সমর্থকরা গোলচত্বর এলাকায় জড়ো হয়ে মানববন্ধনের চেষ্টা করেন। এ সময় খন্দকার নাসিরের সমর্থকরা সভা করার পাল্টা প্রস্তুতি নিলে এলাকা জুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা পরিষদ কার্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরে তার পক্ষ থেকে মাইকিং করে জনতাকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় ফরিদপুর থেকে কয়েক প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান জানান, পরিস্থিতি এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ফলে ওই এলাকায় উভয় পক্ষের সব ধরনের সভা-সমাবেশ সন্ধ্যা পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়।

এ বিষয়ে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি নেতা ঝুনু মিয়া বোয়ালমারী হতে বেশকিছু আওয়ামী লীগ ও বিএনএমের নেতা-কর্মী নিয়ে আলফাডাঙ্গায় আমার বিরুদ্ধে একটি মানববন্ধন করার জন্য যেতে চান। কিন্তু আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে তারা সেখানে যেতে পারেননি। পরে বোয়ালমারী সীমানার মধ্যে আমার বহিষ্কার চেয়ে সভা করে।’  এ বিষয়ে বিএনপি নেতা শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত