ববিতে এক যুগ পেরিয়েও অধরা প্রথম সমাবর্তন

আপডেট : ২৭ মে ২০২৫, ০৫:১৮ পিএম

স্নাতক সম্পন্ন করার পর কালো গাউন পরে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠার যে বিশেষ দিনটির অপেক্ষায় থাকেন শিক্ষার্থীরা, সেটি হলো সমাবর্তন। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং শিক্ষাজীবনের সাফল্যের স্বীকৃতি এবং এক অবিস্মরণীয় স্মৃতির দিন। কিন্তু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়েও গেলেও আজও সেই দিনটি অধরা রয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠার ১৪ বছরেও কোনো সমাবর্তনের আয়োজন করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩টি ব্যাচের আবর্তন হয়েছে এখন পর্যন্ত। এর মধ্যে ৮টি ব্যাচের শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করে বের হলেও কেউই সমাবর্তনের দেখা পাননি। ফলে প্রতিবছরই বাড়ছে সমাবর্তন বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা। অনেকের কাছে সমাবর্তন যেন “সোনার হরিণে” পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মো. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া গত বছর সমাবর্তনের প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি সেই সমাবর্তনে থাকার আগ্রহও প্রকাশ করেন। কিন্তু এরপর আর কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি প্রশাসনকে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে নবনিযুক্ত উপাচার্য বরাবর শিক্ষার্থীদের পেশ করা ৮২টি দাবির মধ্যে চলতি বছরেই সমাবর্তন আয়োজনের দাবিও জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সমাবর্তন না হওয়ায় মূল সনদ না পেয়ে সাময়িক সনদ নিয়েই কর্মজীবনে প্রবেশ করতে হচ্ছে তাদের। এতে চাকরি বা বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নানা রকম জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে অনেককে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমাবর্তন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যায়। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতা ও পরিকল্পনাহীনতার কারণেই এতদিনেও সমাবর্তনের আয়োজন সম্ভব হয়নি।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাজমুল আহমেদ বলেন, “স্নাতক শেষ করেছি কয়েক বছর আগে, কিন্তু এখনো সমাবর্তন হয়নি এটা খুবই হতাশাজনক। এটা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, আমাদের স্বপ্ন ও পরিশ্রমের প্রতীক। মূল সনদ না পাওয়ায় চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় অনেক সময় প্রোভিশনাল সনদ যথেষ্ট হয় না।”

লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মিল্লাত হোসেন বলেন, “সমাবর্তন একজন শিক্ষার্থীর জীবনে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। এটি শুধু সনদ পাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং কালো গাউন ও চারকোণা টুপির মাধ্যমে অর্জনের গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। সমাবর্তনের মাধ্যমে আমরা আবারও একসঙ্গে মিলিত হতে চাই, স্মৃতিকে নতুন করে জীবন্ত করে তুলতে চাই।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “চার বছর পড়াশোনার শেষে সকল শিক্ষার্থীরই সমাবর্তনের আশা থাকে। আমি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিব।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত