১০ জুন বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচ নিয়ে আগ্রহের পারদ চড়তে চড়তে আকাশ ছুঁয়েছে। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, ফাহমিদুল ইসলামদের ঘরের মাঠে অভিষেক দেখার স্বপ্ন ছিল অসংখ্য ভক্তের। তবে সবার স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে না। টিকিট নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও তাদের নির্ধারিত টিকিট বিক্রির দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান টিকিফাইয়ের 'তুঘলকি কান্ডে' সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে অসংখ্য ফুটবলপ্রেমীর। নানা ডিভাইসে অসংখ্যবার চেষ্টা করেও হাজারো মানুষ পারেনি টিকিট কাটতে। কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে রাগে ক্ষোভে ফুসছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
২৫ তারিখ রাত আট থেকে টিকিফাইয়ের মাধ্যেম আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিট বিক্রির কথা জানিয়েছিল বাফুফে। তবে সাইবার অ্যাটাক হওয়ায় টিকিফাইয়ের সার্ভাস ডাউন থাকে বড় একটা সময়। সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিয়ে ২৬ মে রাত ১০টা থেকে কিছু কিছু করে টিকিট বিক্রি করার কথা বলেছিলেন খোদ বাফুফে সভাপতি। তখন থেকেই টানা ডিভাইজ হাতে নিয়ে চেষ্টা শুরু করেন দর্শকরা। তবে বেশিরভাগই টিকিট বিক্রির মূল পেইজ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি অসংখ্যবার চেষ্টা করেও। মঙ্গলবার দুপুরে অল্প কিছু সময়ের জন্য টিকিটের পেইজ উন্মুক্ত করা হয়েছিল। সে সময় কিছু টিকিট বিক্রিও হয়। তবে এর কিছুক্ষণ বাদেই সব টিকিট সোল্ড আউট দেখানো হয় এবং টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেয় টিকিফাই।
বাফুফের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে টিকিট বিক্রি বন্ধের ঘোষণার কমেন্টবক্সে বাফুফে কর্তাদের দিকে সমালোচনার তীর ছুঁড়তে দেখা গেছে অসংখ্য ফুটবলভক্তকে। কাউসার আহমেদ নামে একজন লিখেছেন, দর্শকদের কাছে এসকল সাজানো নাটক করার কোনই দরকার ছিল না। আমার ক্যারিয়ারে অনলাইনে কোন কাজে, এত সময় কখনও দিতে হয়নি। তারপরও টিকিট পাইনি। এখানে শুধু ফুটবল ফ্যানদের আবেগ নিয়ে খেলা করা হয়েছে। ধন্যবাদ বাফুফে।'শাকিল আহমেদ নামে আরেক দর্শক লেখেন, 'সার্ভারেই ঢুকতে পারলাম না, বলে টিকিট শেষ। সত্যি সেলুকাস।' এজহাত শরীফ লেখেন, 'অন্যায় হয়েছে আমাদের সাথে। সারক্ষণ ঢুকে বসে ছিলাম। যখন নাজাম পড়তে গেছি দুপুরে এসে দেখি টিকিট শেষ। ৩টা দিন খঅওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে টিকিফাইতে বসে ছিলাম। কালকে রাত ১০টায় বলে আজকে ১টায় কেন ছাড়লো। এর জবাবদিহি কে করবে?'
দর্শকের এরকম হাজারো প্রশ্নের জবাবাদিতিহার জন্য মঙ্গলবার কেউ ছিলেন না বাফুফেতে। তবে কম্পিটিশনস কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান তাজওয়ার আউয়াল এ নিয়ে কথা বলেন বিকেলে। তিনি বলেন, 'আমাদের ১৮ হাজার ৩০০ সাধারণ গ্যালারির সব টিকিট বিক্রি শেষ। আমরা দেখেছি গতকাল রাত থেকে ৫ মিনিটে ৩০ হাজার ইউজার অনলাইনে আসার চেষ্টা করেছিল। আমরা একটা কিউ সিস্টেম করেছিলাম। কালকেও দুবার সাইবার অ্যাটাক হয়েছিল। কিন্তু কালও আমরা সেটা সাকসেসফুলি মোকাবেলা করেছি। স্লো সিস্টেমটা নিয়ে। পুরো সিস্টেমটা নিয়ে। কিন্তু সারা রাত জেগে ছিলাম টিকেটিং কোম্পানির সঙ্গে। আমরা দেখেছি টিকেটিং কোম্পানি প্রত্যেক মিনিটে সাকসেসের সঙ্গে টিকিট সেল করছিল। ক্লাব হাউজ ২ অনলাইনে সোল্ড আউট। বাকি হসপিটালিটি বক্স রবি একটা নিয়েছে। অন্য কর্পোরেট হাউজগুলোও নিয়েছে। সব সোল্ড আউট।
জানা গেছে দেশের দর্শকরা না পারলেও বিদেশ থেকে অনেকেই টিকিট কিনেছেন। তবে কি পরিমান টিকিট বিদেশ থেকে কেনা হয়েছে সেই সংখ্যাটা জানাতে পারেননি তাজওয়ার, 'ওই আপডেট এখনও নাই। ফরেনসিক অডিট করব। কোনও টিকিটে কোনও মিস ম্যাচ আছে নাকি। আমরা কোনও অতিরিক্ত টিকিট পাই নাকি সিস্টেমে। আমরা সব চেক করব। টিকিফাই যেন কোনও মিসটেক না করে। বাফুফে যেন কোনও মিসটেক না করে। আমাদের যদি কোনও টিকিট থাকে তাহলে শতভাগ আমরা সেটা অনলাইনে উঠিয়ে দেব। আমরা যদি একটা দুটোও পাই সেটাও অনলাইনে দিয়ে দেব।'টিকিট কালোবাজারে চলে যাওয়ার রুখতে সরকারের সহায়তা নেওয়ার কথা জানান তাজওয়ার।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, বেশি লাভ এবং শতভাগ বিক্রি নিশ্চিতের আশায় বাফুফের কিছু কর্মকর্তা আগেভাগেই অনেক টিকিট বিভিন্ন পরিচিত মানুষের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। এক শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে মিডিয়া সেন্টারের ছাদের ওভার ফ্লো, যেটা শুধুমাত্র সংবাদকর্মীদের জন্য বরাদ্দ, সেটাও একটি সামাজিক ক্লাবের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পাকিস্তানকে চ্যালেঞ্জিং প্রতিপক্ষ মনে করছেন লিটন
'শেষটা ছিল কষ্টের, তবে স্মৃতিগুলো অমূল্য', শেফিল্ডকে বিদায় জানালেন হামজা 