লাশ দেখে ফেরার পথে লাশ হলেন তারা

আপডেট : ২৯ মে ২০২৫, ০৯:০১ পিএম

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে লাশ দেখে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করছেন নারী ও শিশুসহ দুইজন। এ ছাড়া গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরো দুইজন।

নিহতের একজন মা শ্যামলী রানী রায় (৩০) ও মেয়ে দেবশ্রী রায় (৭)। শ্যামলী বোদা উপজেলার সাকোয়া এলাকার তাপস চন্দ্র রায়ের স্ত্রী। দেবশ্রী দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের রাজার হাট এলাকার হরেন্দ্র নাথের ছেলে। দেবশ্রী শ্যামলীর বড় বোন কমলার ছেলে।

গুরুতর আহত হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের লক্ষীর হাট এলাকার সুরেন্দ্র নাথের ছেলে অজয় কুমার রায় ও পামুলী ইউনিয়নের জোতভূবন পাড়া এলাকার অরুন চন্দ্র রায়ের স্ত্রী বর্ষা রানী।

বৃহস্পতিবার (২৯) মে বিকাল ৩টায় দেবীগঞ্জ পৌর সদরের পাকুরীতলার মদিন কোল্ড স্টোরেজ সংলগ্ন বোদা-দেবীগঞ্জ মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতরাতে (বুধবার) অজয় রায়ের বেয়াইন মারা যান। আজ সকালে অজয় রায় তার মৃত বেয়াইনকে দেখতে পরিবারের লোকজনসহ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নে গিয়েছিলেন। ইজিবাইকে (থ্রি হুইলার) ফেরার পথে পাকুরীতলার মদিনা কোল্ড স্টোরেজের কাছে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাদের বহনকারী ইজিবাইকে সজোড়ে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। এতে গুরুতর আহত হয়ে মহাসড়কে ছিটকে পড়েন তারা।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ৩টি অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পথে শ্যামলীর মৃত্যু হলে অ্যাম্বুলেন্স দেবীগঞ্জে ফিরিয়ে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরেই মারা যায় দেবশ্রী। অজয় কুমার ও বর্ষা রানী আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন।

দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সোয়েল রানা জানিয়েছেন, ঘাতক ট্রাকটি আটকের চেষ্টা চলছে, প্রাথমিক সুরতহাল শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত