ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ দুই শর্তে রাজি ইরান

আপডেট : ৩০ মে ২০২৫, ০২:১০ এএম

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কয়েক দফায় আলোচনায় বসেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। সেসব আলোচনার পর তেহরান এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে। গত বুধবার ইরানের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষ রাজনৈতিক চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে এজন্য দুটি শর্ত দিয়েছে ইরান। সূত্র দুটি রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড় করে এবং বেসামরিক ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করতে পারে তেহরান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এই প্রস্তাবে যদি যুক্তরাষ্ট্র রাজি হয়, তাহলে শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যদি এই চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়, তাহলে এক বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে তেহরান। এরই মধ্যে তাদের কাছে যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম আছে, তার কিছু অংশ বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে কিংবা জ¦ালানিতে রূপান্তরিত করা হবে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে এই সাময়িক বিরতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী ‘রেডলাইন’ নিয়ে অচলাবস্থার সমাধানে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন চলে আসা বিরোধ নিরসনে গত মাস থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ দফা আলোচনার টেবিলে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার শুরু থেকেই ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের ওপর জোর দিয়ে আসছেন। ওয়াশিংটনের ভাষ্য ২০১৫ সালের ব্যর্থ পরমাণু চুক্তির পরিবর্তে ইরানের সঙ্গে যদি নতুন কোনো চুক্তি হয়, তবে সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করার প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখে। তবে তেহরানের দাবি, তাদের এমন কোনো অভিপ্রায় নেই। তারা পরমাণু শক্তিকে ব্যবহার করতে চায় শুধু বেসামরিক উদ্দেশ্যে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত