কক্সবাজারে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। রায়ের জন্য আগামী সোমবার দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি সগির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য এদিন ধার্য করে। গত ২৩ এপ্রিল এ মামলায় হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিম সরকার ও শামীমা সুলতানা দিপ্তী। আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও এসএম শাহজাহান।
গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো কোনো মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা। কোনো কোনো মৃত্যু হয় থাই পাহাড়ের মতো। মেজর সিনহার মৃত্যু আমাদের এবং গোটা দেশকে এমনভাবে নাড়া দিয়েছিল যে, এই মৃত্যুটা থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে।’ রায়ের প্রত্যাশার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিনহা হত্যা মামলায় আমাদের প্রত্যাশা, নিম্নআদালতের রায়টি বহাল থাকবে।’
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মো. রাশেদ খান। শুনানি শেষে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত এক রায়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পাশাপাশি অন্য ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয় আদালত। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, সাগর দেব, রুবেল শর্মা, বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন। পরে বিচারিক আদালতের রায়ের নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। পাশাপাশি বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল করেন।
