দশানী নদীর ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার আটটি গ্রামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের ঘুঘরাকান্দি, আইরমারী মন্দীপাড়া, উজান কলকিহারা, কলকিহারা, খাপড়াপাড়া গ্রাম ও সাধুরপাড়া ইউনিয়নের চরআইরমারী, বাংগালপাড়া ও বালুগ্রামের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীর দুই তীরে প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। অপরিকল্পিত ড্রেজিং ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভারী বর্ষণে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকা নতুন করে ভাঙনের কবলে পড়েছে।
গত বছর মেরুরচর ইউনিয়নের ঘুঘরাকান্দি বাজার নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় পার্শ্ববর্তী এলাকায় বাজার সরিয়ে নেওয়া হয়। পাহাড়ি ঢল, ভারী বর্ষণ এবং নদীর স্রোত বৃদ্ধির কারণে গত সপ্তাহ থেকে প্রবল ভাঙন দেখা দেওয়ায় ঘুঘরাকান্দি বাজারটি আবারও ঝুঁকিতে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের ঘুঘরাকান্দি, আইরমারী, মন্দীপাড়া, উজান কলকিহারা, কলকিহারা, খাপড়াপাড়া ও সাধুরপাড়া ইউনিয়নের চরআইরমারী, বাংগালপাড়া ও বালুগ্রামের নদী পাড়ের ঘর-বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গাছপালা কেটে ফেলা হচ্ছে। গত কয়েক দিনের ভাঙনে দোকান, একটি মসজিদ ও গ্রামীণ সড়ক, কয়েক একর জমি, ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে মন্দীপাড়া সেতু, মন্দীপাড়া বাজার ও শত শত বিঘা ফসলি জমি এবং ঘরবাড়ি। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি, ভিটাহারা মানুষরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং করায় দশানী নদীতে তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। তীব্র স্রোতে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদের এই শাখা নদীটি। এবার দুপাড়েই ভাঙন শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নদীপাড়ের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। বার বার ভাঙনের শিকার হয়ে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে মানুষ। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে অস্তিত্ব হারাবে দুই ইউনিয়নের আটটি গ্রাম। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ (বালুর বস্তা) ফেলার পাশাপাশি গ্রামগুলো রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি তাদের।
ঘুঘরাকান্দি বাজারের মুদি ব্যবসায়ীরা জানান, নদীভাঙনের কারণে তাদের প্রতিষ্ঠান কয়েকবার বদল করতে হয়েছে। গতবার ভাঙনের কবলে পড়ায় বাজারটি পার্শ্ববর্তী এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসী অস্তিত্ব সংকটে পড়তে যাচ্ছেন। কেউ কেউ পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
মেরুরচর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে। দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা না হলে আমার ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী সাধুরপাড়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। দ্রুত গ্রামগুলো রক্ষায় আমরা জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এ বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডর নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান বলেন, ‘মেরুরচর ইউনিয়নের খাপড়াপাড়া অংশে ভাঙন রোধে ১০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ (বালুর বস্তা) ডাম্পিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। খুব দ্রুত নদী গবেষণা প্রকল্পের আওতায় ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
