জর্ডানে শনিবার রাতে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ৩৯ ধাপ এগিয়ে থাকা ইন্দোনেশিয়াকে রুখে দেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন ঋতুপর্ণা, আফিদারা। আম্মানের কিং আব্দুল্লাহ মাল্টিপারপাস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি গোলশূণ্য ড্র হয়েছে।
ফিফা র্যাংকিংয়ে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান ৯৪তম। আর বাংলাদেশ আছে ১৩৩তম স্থানে। র্যাংকিংয়ের এই ব্যবধান পেছনে ফেলে বাংলাদেশের মেয়েরা চোখে চোখ রেখে খেলেছে বলেই গত বছর অক্টোবরে সাফ শিরোপা জয়ের পর বলার মতো একটা ফল পেয়েছে। মাঝখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সেই ম্যাচে অবশ্য সাফ জয়ে অবদান রাখা অনেক ফুটবলার খেলেননি। ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ১৮জন ফুটবলার ক্যাম্প বয়কট করেছিলেন। ফলে অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ একটি দল নিয়ে আমিরাত সফরে যেতে হয়েছিল বাটলারকে। দুটি ম্যাচেই বাংলাদেশ হেরেছিল ৩-১ ব্যবধানে। এবার অবশ্য অভিজ্ঞ ও তারুণ্যে মিশ্রনে একটি দল নিয়ে জর্ডান যান কোচ। সাফজয়ী দলের অনেক ফুটবলারকেই ফিরিয়েছেন তিনি। তবে সাবিনা খাতুনসহ পাঁচজন অভিজ্ঞ ফুটবলারের জায়গা হয়নি তার দলে।
দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করা ফরোয়ার্ড ও নিয়মিত অধিনায়ক সাবিনা ছাড়াও অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীন, রাইট উইঙ্গার সানজিদা আক্তার, ফরোয়ার্ড কৃষ্ণারানী সরকার ও মাতসুশিমা সুমাইয়া এবং ডিফেন্ডার নিলুফার ইয়াসমিন বাদ পড়েছেন দল থেকে। এদের ছাড়াই অবশ্য শনিবার রাতে জর্ডান থেকে সুখবর দিয়েছেন আফিদা খন্দকারের নের্তৃত্বে খেলা বাংলাদেশ দল। যে দলে সাফের ফাইনালের সেরা ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্ডা, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র ও জুনিয়র এবং তহুরা খাতুনের মতো অভিজ্ঞরা রয়েছেন।
দলের এমন পারফরম্যান্সের প্রতিক্রিয়ায় কোচ পিটার বাটলার বলেন, 'মেয়েরা আজ অসাধারণ খেলেছে। একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট করা ছাড়া তাদের সাহসী খেলা দেখে সত্যি অভিভূত হয়ছি। তাদের নিয়ে আমি সত্যি গর্বিত। আমি মনে করি মেয়েরা ভালো মাঠে ভালো ফুটবল উপহার দিতে পেরেছে। বিশেষ করে ঋতু, মনিকা, স্বপ্না, মারিয়া দূর্দান্ত খেলেছে। মনে রাখতে হবে এই মেয়েরা নিয়মিত খেলার সুযোগ পায় না। তারা নিয়মিত ঘরোয়া লিগ খেলে না। বিদেশের বিভিন্ন লিগেও তাদের খেলার সুযোগ হয় না। তারপরও তাদের নিবেদন, পরিশ্রম এবং চেষ্টার প্রশংসা করতেই হয়। আমি মনে করি এখনই সময় তাদের জন্য খেলার আরও সুযোগ নিশ্চিত করা।'
জর্ডান সফরে বাংলাদেশ ৩ জুন স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে। এ দুটি ম্যাচই আসন্ন এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের প্রস্তুতি বাংলাদেশের জন্য।
