জামালপুরে নতুন গ্যাসের সম্ভাবনা

আপডেট : ০২ জুন ২০২৫, ০৭:২৭ এএম

জামালপুরে একটি গ্যাসকূপে নতুন গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। গতকাল রবিবার প্রাথমিকভাবে এই গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেখান থেকে কী পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাবে এবং তা কতটা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, এখনই চূড়ান্তভাবে কিছু বলার সময় হয়নি। গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, ডিএসটি শেষে জানা যাবে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য কি না।

জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া গ্রামে ‘জামালপুর-১ অনুসন্ধান’ নামের ওই গ্যাসকূপে অনুসন্ধান শেষে গতকাল দুপুরের দিকে ৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন ঘনফুট চাপে গ্যাস বের হচ্ছে।

প্রাথমিক পরীক্ষায় সেখানে গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো.মোজাম্মেল হক। এর আগে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রাথমিক পরীক্ষায় গ্যাসের সন্ধান মেলে।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, ২ হাজার ৬০০ মিটার খনন করা হয়েছে। ১ হাজার ৪৪১ থেকে ১ হাজার ৪৪৫ মিটার মাটির নিচের স্তর থেকে ৭ দশমিক ২ মিলিয়ন চাপে গ্যাস বের হচ্ছে। তার ওপর আরও একটি স্তরে রয়েছে। সেখানেও গ্যাস আছে। ৭২ ঘণ্টার পরীক্ষা শেষে কী পরিমাণ গ্যাস রয়েছে, তা জানা যাবে। এ ছাড়া তেল বা অন্য কোনো খনিজ পদার্থ রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা শেষে জানা যাবে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের আওতাধীন বাপেক্স এক্সপ্লোরেশন ব্লক-৮-এর জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া গ্রামে ১৯৮০ সালের সাইসমিক জরিপ, ২০১৪-১৫ সালের সাইসমিক জরিপ ও ২০১৫-১৬ সালের ক্লোজ গ্রিড সাইসমিক জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে ‘জামালপুর-১ অনুসন্ধান’ কূপটি খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কূপ খননের কাজ শুরু হয়। বাপেক্সের প্রকৌশলী, শ্রমিকসহ ২২০ জন ব্যক্তি খননকাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি কূপ খননের স্থানে ড্রিলিং রিগ স্থাপন করা হয়। গত ২৪ জানুয়ারি মাদারগঞ্জ উপজেলার তারতাপাড়া গ্রামে গ্যাস খনন কূপটির খনন কাজ উদ্বোধন করেন জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ২০১৪ সালে একই এলাকায় গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল।

এর আগে দ্বীপ জেলা ভোলায় ইলিশা-১ নামে বাংলাদেশের ২৯তম গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই গ্যাসক্ষেত্রটিতে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত