দ্রুত ‘জুলাই চার্টার’ প্রকাশের আশা প্রধান উপদেষ্টার

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৫, ০১:৫৮ এএম

এক মাসের মধ্যে সংবিধান ছাড়া বাকি সংস্কার বাস্তবায়ন এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায় বিএনপি। অন্যদিকে, ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে যেকোনো সময়ে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জামায়াতের। তবে জুলাই সনদ হওয়ার পরেই নির্বাচনের তারিখের বিষয়ে দাবি জানানোর কথা বলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

গতকাল সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তারা।

দ্বিতীয় দফায় রাজনৈতিক দলগুলো সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ সংলাপের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা এবং কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে এ আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ৩০টি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠকে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজসহ অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই সনদ করতে সব দল একমত হয়েছে। সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক প্রস্তাবে দলগুলোর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের সংলাপে চেষ্টা করা হবে।

একটি চমৎকার ‘জুলাই সনদ’ করা সম্ভব হবে, এমন আশা প্রকাশ করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এ সুযোগ যেন আমরা হারিয়ে না ফেলি।’

অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব তৈরির জন্য সংস্কার কমিশন গঠন ও পরবর্তীকালে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন এবং ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দলগুলোর প্রথম পর্বের আলোচনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার মনে হয়েছিল যে হয়তো দলগুলো এ কাজে আগ্রহ পাবে না, ভেতরে ঢুকতে চাইবে না। কিন্তু দলগুলো যেভাবে গভীরে গেছে, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছে, ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিতর্ক করেছে, তাতে তিনি আনন্দিত হয়েছেন।

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা সবাই আজ এখানে দেশ ও জাতির কল্যাণে একত্রিত হয়েছি। অনেক বিষয় আছে, কাছাকাছি এসে গেছি, আরেকটু হলে আমাদের তালিকাতে আরেকটা সুপারিশ যুক্ত হয়, ওই ঐকমত্যের সুপারিশে। প্রথম পর্বের আলোচনায় যেসব বিষয়ে দূরত্ব রয়ে গেছে, দ্বিতীয় পর্বে সেগুলো ঘুচে যাবে আশা করি। দূরত্ব ঘুচিয়ে এনে যাতে জুলাই সনদে বর্তমানে যতগুলো ঐকমত্যের বিষয় আছে, তার মধ্যে আরও কিছু যোগ করতে পারি। দেখতে সুন্দর লাগবে, জাতীয় একটা সনদ হলো।’

রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি সারা দিনে যত মিটিং করি, এ পর্যন্ত যত মিটিং করে এসেছি, সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাই, যখন আপনাদের সঙ্গে বসার সুযোগ পাই, আলাপ করার সুযোগ পাই। কারণ, এখানে সবাই মিলে বাংলাদেশের প্রকৃত ভবিষ্যৎ রচনা করা হচ্ছে। এটা আমাকে শিহরন জাগায় যে, এরকম একটা কাজে আমি জড়িত হতে পেরেছি, নিজেকে যুক্ত করতে পেরেছি।’

ঐকমত্য কমিশন সূত্র জানায়, প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করার পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের আলোচনা হবে বিষয়ভিত্তিক। পবিত্র ঈদুল আজহার আগে এক দিন এবং ঈদের পরে দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা চলবে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার কমিশনের যেসব মৌলিক প্রস্তাবে এখনো ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো এ পর্বে বেশি গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে আগামী জুলাই মাসে ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে ঐকমত্য কমিশনের।

নির্বাচন ডিসেম্বরের পরে যাওয়ার কারণ দেখছে না বিএনপি : বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে কথা বলেন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় নির্বাচন কোনোভাবেই ডিসেম্বরের পর যাওয়ার কারণ নেই। ডিসেম্বরেই নির্বাচন এবং তার আগে জরুরি সংস্কারগুলো করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘সংস্কার কমিশন যথেষ্ট সময় পার করেছে। আমরা তাদের সংস্কার প্রস্তাবের ওপর মতামত দিয়েছি। কোথাও একমত হয়েছি, কোথায় আংশিক একমত আবার কোথাও দ্বিমত পোষণ করেছি। সব বিষয়ে একমত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সংবিধান ছাড়া বাকিগুলো নির্বাহী আদেশ, অর্ডিন্যান্স জারি করে এক মাসের মধ্যেই সংস্কার করা সম্ভব। সুতরাং নির্বাচন ডিসেম্বরের পর যাওয়ার মতো একটিও কারণ উল্লেখ করার মতো নেই।’

সালাহউদ্দিন এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘এ বিষয়টা আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি এবং আবারও সে পন্থার প্রস্তাব দিয়েছি। আজকে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের বক্তব্যে আমরা দেখলাম, ডিসেম্বরের আগে নির্বাচনের জন্য সবার প্রস্তাব আছে। প্রধান উপদেষ্টা সেটি বিবেচনা করবেন। আশা করি, তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে নিরপেক্ষভাবে সে ভূমিকা পালন করবেন।’

সংস্কার নিয়ে মতৈক্যের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দ্বিতীয় পর্যায়ের আলাপ-আলোচনায় মনে হয়েছে, কিছু কিছু জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা একমত হওয়ার জন্য সব দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। হয়তোবা আমরা জাতীয়ভাবে সব বিষয়ে একমত পোষণ করতে পারব না, এ হচ্ছে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু আমরা আলাপ-আলোচনা করব। কোথাও আমরা একমত হতে পারব, কোথাও আবার একমত হওয়ার কাছাকাছি আসতে পারব, এভাবেই একটি জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি হবে।’

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এ বৈঠকে বিএনপির নেতাদের মধ্যে দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন।

ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে ভোটের পক্ষে জামায়াত : চলতি বছর ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন চায় জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে এ অবস্থান জানিয়েছে দলটি।

জামায়াতে ইসলামী বলেছে, তারা নির্বাচনের তারিখের বিষয়ে কঠোর নয়, নমনীয় থাকতে চায়। তাদের চাওয়া ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন হোক। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে জনমনের শঙ্কা কেটে যাবে।

বৈঠক শেষে বেরিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, ‘কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, প্রথম হচ্ছে সংস্কারের বিষয়। আমরা বলেছি, জুলাইয়ের ভেতরে এ সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। অনেক বিষয় ঐকমত্য হয়েছে। কিছু বিষয়ে সামান্য দ্বিমত আছে বিভিন্ন দলের মধ্যে। আগামীকাল (আজ) থেকে সব দলকে একসঙ্গে করে একটা মিটিং হবে। সেখানে এ ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। আর যেসব বিষয়ে মৌলিক কিন্তু ঐকমত্য হচ্ছে না, সেগুলোর ব্যাপারেও আমরা বারবার আলোচনায় এসে কাছাকাছি জায়গায় পৌঁছাতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘একেবারে ঐকমত্য হচ্ছে না এসব বিষয়ে কী করা যাবে, সে বিষয়ে আমরা একটা আলোচনা করব এবং জুলাইয়ের ভেতরে এটা শেষ হবে। তারপর একটা জুলাই সনদ হবে, যেখানে আমরা সব পলিটিক্যাল পার্টি নীতিগতভাবে একমত হয়েছি যে, সেই চার্টারে আমরা সাইন করব।’

প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এ বৈঠকে নির্বাচনের তারিখের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘আমরা দুটো কথা বলেছি। প্রথম হচ্ছে, আমরা সব দল প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আমাদের আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছি এবং উনার নেতৃত্বেই একটি সফল, সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এবং নির্বাচন হোক আমরা এটা চেয়েছি, এটা উনাকে বলেছি।’

নির্বাচনের তারিখের বিষয়ে তিনটি বক্তব্য এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ডিসেম্বর টু জুন, কিছু পলিটিক্যাল পার্টি বলেছে ডিসেম্বর। আর আমাদের পক্ষ থেকে আমরা বলেছি জুন ও মে মাস আবহাওয়াগতভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য উপযোগী নয়। তাহলে মে, জুন বাদ দিলে ওনার (প্রধান উপদেষ্টা) যে কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) আছে, কমিটমেন্টের যে টাইমলাইন (সময়সীমা), সেটা হচ্ছে ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল। এর মধ্যে একটি রোজা আছে। আমরা বলেছি, এর ভেতরেই আপনি একটা ডেট (তারিখ) ঘোষণা করবেন।’

নির্বাচনের তারিখ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী নমনীয় থাকতে চায় উল্লেখ করে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে খুব রিজিড (কঠোর) হতে চাই না। আমরা ফ্লেক্সিবল (নমনীয়) এবং আপনাকে কোনো ডেট আমরা নির্দেশও দিতে চাই না। ডিক্টেটও করতে চাই না। আমাদের সেন্টিমেন্ট অবশ্যই আজকে প্রকাশ পেয়েছে। আপনি বুঝেছেন এর মাঝে ডিসেম্বর টু এপ্রিল একটা সুইটেবল টাইমে আপনি একটা ডেট দিলেই জনমনে যে এখন কিছুটা শঙ্কা ও অস্বস্তি আছে, এটা কেটে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

জুলাই সনদ ঘোষণার আগে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা চায় না এনসিপি : জুলাই সনদ কার্যকর হওয়ার আগে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদ ঘোষণার আগে যদি নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হয়, তাহলে সংস্কার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আমরা আহ্বান জানিয়েছি, ১৬ বছর আমরা অপেক্ষা করেছি, এরপর ১০ মাস অপেক্ষা করেছি, আরও দুই মাস অপেক্ষা করতে চাই এবং সরকারকে সময় দিতে চাই সব রাজনৈতিক দল মিলে। দুই মাসের মধ্যে আমাদের জুলাই সনদ, যেখানে জনগণ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ শাসনের রূপরেখা, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের মৌলিক সংস্কারের রূপরেখা দেখতে পারবে। সেই জুলাই সনদ হওয়ার পরে সরকার যাতে নির্বাচনে তারিখ ঘোষণা করে, সে আহ্বান আমরা জানিয়েছি। জুলাই সনদ হওয়ার পর আমরা আমাদের দলীয় মন্তব্য জানাব যে, আমরা কখন নির্বাচন চাচ্ছি।’

নির্বাচন কমিশন এখন যে প্রক্রিয়ায় চলছে, তার ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে তিনটি বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বলে জানান নাহিদ ইসলাম। বিষয়গুলো হলো ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সরকার যে জুলাই সনদ ঘোষণাপত্র দেওয়ার কথা বলেছিল, সেটির অগ্রগতি জানতে চেয়েছেন এবং ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে যাতে জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করা হয়, সে আহ্বান জানিয়েছেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আগামী ৫ আগস্ট আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হবে। এটি আমরা উদযাপন করতে চাই। ৫ আগস্টের আগেই জুলাই মাসে যেন জুলাই সনদ রচিত হয়। জুলাই সনদের মাধ্যমে দেশের মানুষ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা এবং শাসন কাঠামো দেখতে চান। জুলাই সনদ হওয়ার আগে যেন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করা হয়।’

অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার নিয়ে মতবিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থে, দেশের স্বার্থে ছাড় দেওয়া যেতে পারে। তবে দলীয় স্বার্থে সরকার যেন কোনো সিদ্ধান্ত না নেয় সেজন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছি। যদি দেশের স্বার্থ চিন্তা করি, তাহলে আমরা অবশ্যই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারব।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার উপস্থিত ছিলেন দলটির পক্ষে।

দ্রুত ‘জুলাই চার্টার’ প্রকাশের আশা প্রধান উপদেষ্টার : রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মিটিং শুরু হয়েছে। মিটিংয়ে প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম পর্বের বৈঠকের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই জুলাই চার্টার গৃহীত হবে। তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে, এ সপ্তাহে আরেকটি মিটিং আছে। এমনও হতে পারে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের একসঙ্গে করে বসা হবে। আগে যেমন একেকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের আলাদা বৈঠক হয়েছে, এখন এমন হতে পারে যে, একেকটি পলিটিক্যাল পার্টির একজন করে বেশ কয়েকটি দলের নেতারা মিলে একসঙ্গে কথা বলবেন।’

বৈঠকে এলডিপির চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের আহমদ আব্দুল কাদের, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, সিপিবির সাজেদুল হক রুবেল, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং নাগরিক ঐক্যের সাকিব আনোয়ারসহ অন্যরা অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত