সরকারি ঘোষণার পরও চামড়ার বাজারে ধস

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৫, ১০:২৩ পিএম

সংকট কাটাতে গত কয়েকদিন আগে মূল্য বাড়িয়ে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও কোরবানির কাঁচা চামড়ার মূল্য নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গরুর কাঁচা চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায়; ছোট গরুর চামড়া কেউ কিনতে চায়নি, তবে কিনলেও ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। ফলে এ বছরও চামড়ার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন মাদ্রাসা ও এতিমখানার দরিদ্র শিক্ষার্থীরা। রাজধানীসহ দেশজুড়ে হতাশার এ চিত্র পাওয়া গেছে।

এ বছর ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

সারাদেশে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছে কাঁচা চামড়ার চাহিদা কম থাকায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন কোরবানির ঈদে পশু কোরবানি দেওয়া ব্যক্তিরা। তারা বলছেন, গরুর চামড়ার জন্য মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অনেক কম দাম দিচ্ছেন।

এদিকে দাম নিয়ে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। আড়ত মালিকদের সংগঠন বলছে, লোকসান এড়াতে সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কিনবেন না তারা।

সাভারের চামড়ার আড়তগুলোতে আড়তদাররা দাম হাঁকছেন প্রতিপিস গরুর চামড়া মানভেদে ৬০০-৭০০ টাকা। এছাড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ছাগলের চামড়া।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের মতে, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা না বুঝে বেশি দামে চামড়া কিনে নিয়ে আসেন। তবে বাজার ভালো নয়। ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় চামড়া কিনছেন তারা।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রতি বর্গফুটে দাম কিছুটা বাড়ানো হলেও বাস্তব খরচ বিবেচনায় নিলে ব্যবসায়ীদের লাভের সম্ভাবনা সীমিত। যেমন, একটি চামড়া ৭০০ টাকায় কিনে লবণ ও শ্রমিক বাবদ খরচ হয় ৩০০ টাকা, হাতবদলে বাড়ে আরও ১০০ টাকা। ফলে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ১৫০ টাকা। এই চামড়া ট্যানারির কাছে কী দামে বিক্রি হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা টিকবে কিনা, সেটি একটি বড় প্রশ্ন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত