হামজাদের সঙ্গী হারের হতাশা

আপডেট : ১১ জুন ২০২৫, ১২:১৫ পিএম

অনেক প্রত্যাশা নিয়ে হাজার হাজার দর্শক জমায়েত হয়েছিলেন ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে। প্রায় চার ঘণ্টা আগে থেকেই গ্যালারির নব্বই ভাগ দর্শক ভর্তি ছিল। সবাই বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে জয় দেখার আশায় ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ঘরের মাঠে হারের হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়েছে সমর্থকদের।

র‌্যাংকিংয়ে ২২ ধাপ এগিয়ে থাকা সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে গ্রুপ থেকে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল কাবরেরার দলের। কিন্তু সেই লক্ষ্য আর পূরণ হয়নি। আগের তিনবারের মতো ২-১ ব্যবধানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। ২০০৭ এবং ২০১৫ সালেও একই ব্যবধানে সিঙ্গাপুরের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ।

ভুটানের বিপক্ষে খেলা একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছিলেন কাবরেরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবাসী নির্ভর দল গড়ার পক্ষে রীতিমতো রব উঠেছিল। কোচ যেন পিপলস চয়েজের পথেই হেঁটে খেলিয়ে দেন পাঁচ প্রবাসীকে। ভারতের ম্যাচের মতো শুধু খেলাননি নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে। শামিতকে জায়গা দিতে জামালকে বসতে হয় বেঞ্চে। চোট থাকা সত্ত্বেও হাফ ফিট তারিক কাজীকে পুরো ম্যাচ খেলিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ। শামিত সোমের অভিষেকের দিনে সৈয়দ শাহ কাজেমকে একাদশে রাখার যৌক্তিকতাও অজানা। এমনিতেই মাঝমাঠে খেলা কাজেমকে এই ম্যাচে খেলান রাকিব হোসেনের প্রিয় জায়গা রাইট উইংয়ে। রাকিবকে খেলানো হয় ফলস নাইন পজিশনে। কাজেম এ ম্যাচে নিজেকে চেনাতেই পারেননি। তাই বিরতির পর তাকে উঠিয়ে নামানো হয় শাহরিয়ার ইমনকে। ভুটানের বিপক্ষে গোল পাওয়া সোহেল রানারও খেলা হয়নি এই ম্যাচ। তার জায়গায় খেলেন মোহাম্মদ হৃদয়। আর লেফট ব্যাক পজিশনে তাজ উদ্দিনের জায়গায় খেলেন শাকিল আহাদ তপু।

এমন আকাক্সিক্ষত ম্যাচে যেমন ফুটবলটা খেলা উচিত ছিল, সেটা খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। বল নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে বেশি গেছে সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশ আক্রমণে ওঠে ৩০ মিনিটের পর। শামিতের ডিফেন্সচেরা পাসের গতি একটু বেশি থাকায় ধরতে পারেননি রাকিব। ৩৫ মিনিটে হামজার ফ্রি কিক ক্রসবারের ওপর দিয়ে গেলে হতাশা বাড়ে। ৪০ মিনিটে ফাহামিদুল ইসলাম ভালো সুযোগ হাতছাড়া করেন। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা এই উইঙ্গার সময়ক্ষেপণ করে শেষ পর্যন্ত দুই ডিফেন্ডারের প্রতিরোধে শটই নিতে পারেননি।

প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে গ্যালারিকে থমকে দেয় সিঙ্গাপুর। হ্যারিস স্টুয়ার্টের আরেকটি লম্বা থ্রো-ইনে জটলায় বল আসার পর হারিস হারুনের শট ডিফেন্সে বাধা পেয়ে হাওয়ায় উড়লে মিতুল দৌড়ে গিয়ে ফিস্ট করেছিলেন। সেটি পেয়ে হ্যারিস স্টুয়ার্ট ক্রস ফেলেন। চলতি বলে সং উইয়ংয়ের ডান পায়ের ভলি জালে জড়ানোর আগে হামজা চেষ্টা করেছিলেন গোল লাইন থেকে ক্লিয়ার করার। তবে পারেননি।

বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণে উঠেছিল বাংলাদেশ। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে রাকিব ক্রস ফেলেছিলেন। তবে ঠিক জায়গায় থাকতে পারেননি কাজেমের জায়গায় মাঠে আসা শাহরিয়ার ইমন। বাংলাদেশকে আরও হতাশ করে ৫৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে সিঙ্গাপুর। বক্সের বেশ বাইরে থেকে হামি সিয়াহিনের শট অপ্রস্তুত মিতুল আয়ত্তে নিতে পারেননি। ফিরতি বল পেয়ে যান ইখসান ফান্দি। ঠা-া মাথায় মার্কার হৃদয়ের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে দূরের পোস্টে বল জমা রাখেন এই স্ট্রাইকার।

৬৭ মিনিটে অবশ্য ব্যবধান ঘুচিয়েছিলেন রাকিব। হামজার থ্রু পাসে বক্সের ওপর থেকে শট নেন রাকিব। সিঙ্গাপুর কিপারের শরীরের নিচ দিয়ে বল গড়িয়ে গড়িয়ে জালে জড়ালে ফের উত্তাল হয়ে ওঠে গ্যালারি। কাবরেরাও শেখ মোরসালিন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও আল আমিনকে নামিয়ে অলআউট আক্রমণের পথে হেঁটেছিলেন। তবে গোল করার মতো ঘর সামলানোর কাজেও বাংলাদেশকে পেছনে ফেলেছে সিঙ্গাপুর। যোগ করা সময়ে অবশ্য বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত গোল পেতে পারত। শাহরিয়ার ইমনের হেড পেয়ে হামজার প্রচেষ্টা বাইরে দিয়ে গেলে হতাশা বাড়ে। আর শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে মোরসালিনের ক্রসে তারিক কাজীর হেড পোস্টে লেগে বাইরে গেলে হারের কষ্টটা দ্বিগুণ হয় স্বাগতিকদের।

‘সি’ গ্রুপের অপর ম্যাচে হংকং ১-০ গোলে ভারতকে হারিয়েছে। তাতে গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে এগিয়ে গেছে হংকং ও সিঙ্গাপুর। দুদলেরই সংগ্রহ চার করে। বাংলাদেশ ও ভারতের সংগ্রহ এক করে। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে ঘরের মাঠেই অক্টোবরে বাংলাদেশকে হারাতে হবে হংকংকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত